৩ মেলার সমান্তরাল জাঁকজমকতা শেষে অনেকটাই শান্ত রাঙ্গামাটি!

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

শহরের হ্যাপির মোড়, জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গন ও রাজবন বিহারে বসেছে জমজমাট মেলা, পর্যটক ও  স্থানীয় জনসাধারনে ভরপুর রাঙামাটি। মেলাতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীর আগমনে কোথাও এক কদম দাঁড়ানোর জো নেই। যানজটের দৃশ্য চট্রগ্রাম শহরকেও যেন হার মানায়। গত দুইদিনে পর্যটন শহর রাঙ্গামাটির চিত্র ছিল অনেকটা এমন কিন্তু ৭ নভেম্বর জগদ্ধাত্রী পূজা ও ৮ নভেম্বর কঠিন চীবর দান সুসম্পন্ন হওয়ায় ভেঙ্গে গেছে ২টি মেলা আর সেই সাথে আবারো চিরচেনা শান্ত শহরে পরিণত হয়েছে প্রাণের শহর রাঙ্গামাটি। তবে খুশির খবর হচ্ছে আরো ২দিন চলবে জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণের বাণিজ্য মেলা!

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাণিজ্য মেলায় ভিড় জমেছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের। স্থানীয় জনসাধারন ছাড়াও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকেও মেলা দেখতে ভিড় জমিয়েছেন পর্যটকরা। রাজধানীতে হওয়া বাণিজ্য মেলা আর রাঙ্গামাটির বাণিজ্য মেলায় পার্থক্য আকাশ-পাতাল! তাতে কি? যানবাহনের বিড়ম্বনা থাকা সত্ত্বেও বিকেল হতে না হতেই ক্রেতায় জমজমাট হয়ে উঠে মেলা প্রাঙ্গণ। পছন্দের পণ্যের দাম হাতের নাগালে থাকায় বেড়েছে বিকিকিনি। তাই খুশি ক্রেতা বিক্রেতা দুই পক্ষই। দিনরাত সমানতালে চলছে পণ্য বিকিকিনি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজারো রকমের পণ্য নিয়ে পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা। মেলায় শিশুদের খেলনা, গৃহস্থালী জিনিষপত্র, শাড়ি, চুড়ি ও প্রসাধনিসহ, নানা রঙের নানা নামের হাতে তৈরি মুখরোচক মিষ্টি খাবারের পসরা নিয়ে বসেছেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা।

মেলায় আসা মাসুমা বলেন, ‘ফুলের ঝাড়ু, শলা, দা, ছুরিসহ সংসারের নিত্যপণ্য এ মেলা থেকে সংগ্রহ করছি কারণ সাধারণ দোকানের চেয়ে মেলায় এসব পণ্যের দাম কম।এছাড়াও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনেক বাহারী পণ্য মেলা ছাড়া কোথাও পাওয়া যায় না। তাই এখান থেকেই সব ক্রয় করে নিচ্ছি।

চট্রগ্রাম থেকে আগত পর্যটক রফিক জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছি।গতবারেও এসেছিলাম  কিন্তু এইবার এতটা জমজমাট হবে তা ভাবতে পারিনি।

ঢাকা থেকে আসা এক  দোকানদার জানান, গতবছরের তুলনায় এইবার মেলা জমজমাট হওয়ায় আশা করছি গত বছর থেকে এইবার মুনাফা বেশি হবে এবং শুক্রবারে বন্ধের দিন হওয়ায় আশা করছি বেচাকেনা আরো বাড়বে।

তবে মেলায় নিয়মিত দামের চেয়ে উচ্চমূল্য রাখার অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে অনেক ক্রেতার কাছ থেকে। মেলায় কর্তৃপক্ষের কোন অভিযোগ ডেস্ক না থাকায় কিছু অসাধু বিক্রেতা এর সুযোগ নিচ্ছে বলে জানান হয়রানীর শিকার ক্রেতারা।