ব্রেকিং নিউজ

জুরাছড়িতে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা’র ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

॥ জুরাছড়ি প্রতিনিধি ॥

পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা। ১৯৮৩ সালে ১০ নভেম্বর চার কুচক্রী গিরি-প্রকাশ-দেবেন-পলাশের এক বিশ্বাসঘাতকতামূলক অতর্কিত হামলায় তিনি নৃশংসভাবে শাহাদাৎ বরণ করেন।এমএন লারমা ছিলেন একজন চিন্তাবিদ, নিপীড়িত জাতি ও মেহনতি মানুষের পরম বন্ধু। এমএন লারমার গড়ে তোলা জুম্ম জনগণের আত্বনিয়ন্ত্রনণাধিকার আন্দোলনের ফসল হিসেবে স্বাক্ষরিত হয়েছে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি।

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন মৃদুভাষী,আচার-ব্যবহারে অমায়িক,ভদ্র ,নম্র, ক্ষমাশীল,সৎ,নিষ্ঠাবান ও সুশৃঙ্খল এবং সাধাসিধা জীবনযাপনে অভ্যস্ত। একাধারে তিনি শিক্ষক ও আইনজীবি হিসেবে বিচক্ষনতা সফলতার পরিচয় দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রেও তার ছিল সুদূর প্রচারী গভীর প্রতিরক্ষা ভাবনা।তিনি ২৩ জুন ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদে বাজেদের উপড় আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন,“দেশ রক্ষার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

১০ নভেম্বর ২০১৯ রবিবার এই মহান নেতার স্বরণে ৩৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অস্থায়ী শহীদব্যাধিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন জনসংহতি সমিতির নেতৃবৃন্দ সহ জুরাছড়ি হেডম্যান এসোসিয়েশন ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান। শহীদদের স্বরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন মৈদং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাধনানন্দ চাকমা। ইমন চাকমা’র সঞ্চালনায় ছাত্র ও যুববিষয়ক সম্পাদক পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতি জুরাছড়ি থানা শাখা রিটন চাকমা সভাপতিত্বে ,প্রধান অতিথি ছিলেন জেএসএস রাঙ্গামাটি জেলা শাখার ভূমি ও কৃষি বিষয়ক সম্পাদক রনজিৎ কুমার দেওয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জুরাছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা। এছাড়াও শোক সভায় বক্তব্য রাখেন,১নং জুরাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ক্যানন চাকমা,হেডম্যান মায়ানন্দ দেওয়ান প্রমূখ।

উপজেলা চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা বলেন,দেশী এবং বিদেশী চক্রান্তে তৎকালিন সময়ে মহান প্রয়াত নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাকে হত্যা করা হয়েছিল। তারা মনে করেছিল এমএন লারমাকে হত্যাকরে জুম্ম জনগণের আন্দোলন নিষ্ঠব্ধ করা হবে। কিন্তু তাহা সম্ভব হয়নি।১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তি যথাযত বাস্তবায়ন লক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ট নেতৃত্বে একমাত্র সম্ভব। চলমান ভ্রাতৃত্বসংঘাট বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষে সকলকে এগিয়ে আসার আহব্বান জানান।

রনজিৎ কুমার দেওয়ান তার বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগ তারিত কন্ঠে বলেন,জানিনা অদুর ভবিষ্যতে আমাদের অস্তিত্ব ঠিকে থাকবে কিনা,আমরা যদি নিজেকে নিজেরায় না ছিনি তাহলে বেশীদিন লাগবেনা এই বাংলাদেশে আমাদের অস্তিত্ব ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই সকল ভেদাবেদ ভুলে গিয়ে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন।