ব্রেকিং নিউজ

বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্কিত রায় হিন্দু-মুসলিম সহিংসতা উষ্কে দেয়ার মত:ইশা ছাত্র আন্দোলন

॥ মাসুদ পারভেজ নির্জন ॥

০৯ নভেম্বর ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট থেকে বাবরি মসজিদ নিয়ে যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও পূণরায় হিন্দু-মুসলিম সহিংসতা উষ্কে দেয়ার মত। এক যৌথ বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন রাঙামাটি জেলা সভাপতি মুহাম্মদ ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসাইন।

তারা আরো বলেন, আজ বাবরি মসজিদ নিয়ে একটি মিমাংসার রায়ের প্রত্যাশায় ছিল ভারত সহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের মুসলমানগণ। কিন্তু আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্ট উল্লেখ করে যে অনৈতিক রায় ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট ঘোষণা করেছে, সে রিপোর্টে বাবরি মসজিদের নিচে একটি স্থাপনা ছিল বলে উল্লেখ রয়েছে কিন্তু আদতে সেই স্থাপনা কিসের তা স্পষ্ট নয়। এধরণের একটি অসচ্ছ রিপোর্টের আলোকে একটি সুপ্রিমকোর্ট রায় দিলে সেই সুপ্রিমকোর্টের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় বলে আমরা মনে করি।

তারা আরো বলেন- ভারতের প্রত্নতাত্বিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী এখানে কোন হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব প্রমাণিত নয়। অথচ রাম জন্মভূমির কল্পিত দাবীকে কেন্দ্র করে মসজিদের জায়গাটি মন্দির নির্মাণের জন্যে দিয়ে দেয়া হলো।

১৫২৯ সালে নির্মিত প্রায় পাঁচশত বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদটি ১৯৯২ সালে ৬ ডিসেম্বর উগ্রবাদী হিন্দুরা ভেঙ্গে ফেলে। মসজিদ ভাঙ্গার পরপরই ভারতে হাজার হাজার মুসলমানকেও হত্যা করা হয়। আজকে ভারতীয় সুপ্রীম কোর্ট ভেঙ্গে ফেলা বাবরী মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের রায় দিয়ে মুসলিম উম্মাহর সাথে হিন্দুস্তানের যুদ্ধ (গজওয়ায়ে হিন্দ) বাঁধানোর আনুষ্টানিক ঘোষণা করা হলো।

ভারতে আটশ বছরের ইতিহাস মুসলমানদের জন্য গৌরবের। ইংরেজ বিরোধী স্বাধীনতাযুদ্ধে মুসলমানরা অগ্রনায়কের ভূমিকা পালন করেছে। অথচ জালেম হিন্দুত্ববাদীরা ইতিহাস মুছে ফেলতে চায়। মুসলিম বিশ্ব ও সকল শান্তিকামী মানুষ মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণ কোনভাবই মেনে নেবেনা। মোদী সরকারের জেনে রাখা উচিৎ যে, আদালতের ঘাড়ে বন্ধুক রেখে জোর করে রায় চাপিয়ে দেয়ার পরিনাম শুভ হবে না। মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় প্রতীকসমূহ রক্ষায় জীবনবাজি রেখে লড়াই করে যাবে। তবুও মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণ করতে দিবেনা।

যৌথ বিবৃতিতে নেত্রবৃন্দ- ভারতীয় সুপ্রীম কোর্টের এই রায় পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান এবং ভেঙ্গে ফেলা বাবরী মসজিদটি স্ব-স্থানে পুন:নির্মাণের জোর দাবী জানান।
মসজিদের জন্যই বহাল রাখতে হবে।