রাঙামাটিতে বেড়েছে নারী-শিশু নির্যাতন; মাদকের বিরুদ্ধে শীঘ্রই অভিযানে নামবে টাস্কফোর্স

॥ আলমগীর মানিক-হৃদয় ॥

সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটিতে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে বলে তথ্য উঠে এসেছে জেলার আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায়। এ ধরনের সামাজিক অপরাধ একটি জেলার জন্য মোটেও ভালো লক্ষণ মন্তব্য করে রাঙামাটিতে নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ, ইভটিজিংসহ যৌন হয়রানী বন্ধে আইন প্রয়োগকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সোমবার জেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় জানানো হয়, গত একমাসে রাঙামাটিতে ১১টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।

তার আগের মাসে রাঙামাটিতে নারী ও শিশু নির্যাতন বিষয়ে মামলা হয়েছিলো মাত্র ৬টি। সভায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ ও পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবীর পিপিএম-সেবা, উভয়েই বলেছেন, রাঙামাটিতে কর্মরত সরকারী বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের মাঝে এবং সরকারী সকল প্রতিষ্ঠানের মাঝে বর্তমানে অভূতপূর্ব সম্পর্ক থাকায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রাঙামাটি শহরে মাদকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এবং মাদকসেবীদের উৎপাত কমাতে শীঘ্রই রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করবে মাদক বিরোধী টাস্কফোর্স। সোমবার জেলার সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, রাঙামাটিতে মাদকের অবাধ ব্যবহার বন্ধে মাদকের কেনা-বেচা হয় এমন সব স্থানগুলোসহ যারা যারা মাদকের সাথে জড়িত তাদের ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে।

খুব শীঘ্রই রাঙামাটি জেলায় মাদক বিরোধী বিশেষ টাস্কফোর্সের সদস্যরা সম্ভাব্য সকল স্থানে একযোগে অভিযানে নামবে। সভায় জানানো হয়, গত এক মাসে রাঙামাটিতে ছোটবড় ৫৭টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। তার মধ্যে শুধুমাত্র মাদকের মামলা রয়েছে ২৯টি। তার আগের মাসে রাঙামাটিতে মাদকের মামলা রুজু হয়েছিলো ২৭টি।

পুলিশী তৎপরতার কারনে মাদকের অবাধ বিকিরন কিছু কমেছে বলে সভায় মন্তব্য করে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমালোচনাও করেন। আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এই সভায় মাদকের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, রাঙামাটির মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত এক মাসে রাঙামাটিতে সর্বমোট ৪৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তারমধ্যে ৮টি অভিযানে সফলতা পাওয়া গেলেও বাকি অভিযানগুলো ছিলো নিষ্ফল।

এদিকে মাদকের অবাধ ব্যবহার বন্ধে কিছুটা ব্যর্থ হচ্ছেন জানিয়ে পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর পিপিএম বলেছেন, জেলায় স্থলভাগে মাদকের ব্যবহার পাইকারি পর্যায়ে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও মাদক কার্বারীরা তাদের কৌশল পাল্টিয়ে কাপ্তাই হ্রদকে মাদক বিক্রির হাট হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করায় আমরা তাদেরকে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছি।

পুলিশ সুপার জানান, হ্রদে পুলিশী অভিযানের মাধ্যমে আমরা মাদক বিক্রেতাদের হাতেনাতে ধরতে পারলেও সঙ্গে থাকা মাদকদ্রব্য হ্রদের পানিতে ফেলে দেওয়ায় আমরা মাদকবিহীন সংশ্লিষ্টদেরকে আইনের আওতায় আনতে পারিনা। পুলিশ সুপার বলেন, সচেতন বাসিন্দা বা সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ যদি সম্মিলিতভাবে এগিয়ে না আসে সেই ক্ষেত্রে প্রশাসনের শতভাগ আন্তরিকতায়ও কোনো ফল পাওয়া যাবেনা।

সোমবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই শৃঙ্খলা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ নুরুল হুদা, রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবীর পিপিএম(সেবা), সিভিল সার্জন ডাঃ শহিদ তালুকদার, পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান মহসীন রোমানসহ সরকারী বিভিন্ন সংস্থা-অফিসের কর্মকর্তাগণ ও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বেলা এগারোটা থেকে দুপুর সাড়ে বারোট পর্যন্ত এই সভায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক, রাঙামাটির সড়ক বিভাগ ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে আগামী বর্ষার মৌসুমের আগেই রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কসহ অভ্যন্তরের সড়কগুলোর সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু করার তাগাদা প্রদান করেন।

এছাড়াও রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় বাস্তবায়নরত অভ্যন্তরীন রাস্তাগুলোতে অত্যন্ত নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সভাকে অবহিত করেছেন আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য জেলা আওয়ামীলীগের নেতা হাজী কামাল উদ্দিন।

এদিকে সভায় রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডাঃ শহিদ তালুকদা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতিমাসে গড়ে ১৩৭টি নরমাল ডেলিভারী করছে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে। চলতি মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত সময়ের মাঝেই ৪৯টি ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়াও খুব শীঘ্রই রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের নতুন ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটি চালু করা হবে। এর মাধ্যমে খুবই স্বল্প খরচে হাসপাতালেই রাঙামাটিবাসী অধিকাংশ রোগের পরীক্ষা করাতে পারবে। সোমবার উত্থাপিত তথ্যগুলোর মধ্যে গতমাসে রাঙামাটিতে একটি খুন ও তিনটি চুরি ও অন্যান্য আরো ১২টি মামলা হয়েছে।