পাহাড়ি-বাঙ্গালী সমঝোতায় ১০বছর পর চালু হচ্ছে সাজেকের বাঘাইহাট বাজার

॥ আলমগীর মানিক ॥

নানামুখি অপতৎপরতার পর অবশেষে দীর্ঘ ১০ বছর চালু হতে যাচ্ছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন ঐহিত্যবাহি বাঘাইহাট বাজার। সাজেক ইউনিয়নের অন্তর্গত বাঘাইহাট বাজারে এখন থেকে সপ্তাহের প্রতি রোববার বসবে সাপ্তাহিক হাট। মঙ্গলবার সকালে সাজেকের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বাজার পরিচালনা কমিটিসহ স্থানীয় হেডম্যান-কার্বারীরা মিলে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে বাঘাইহাট বাজারটি চালুর লক্ষ্যে আলোচনায় বসে।

সকাল ১০ ঘটিকা থেকে দুপুর ২ ঘটিকা পর্যন্ত সাজেক থানা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাঘাইহাট বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডাঃ মো. নাজিম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা (নয়ন)। বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গলতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জ্ঞানো জোতি চাকমা, রূপকারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শ্যামল চাকমাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হেডম্যান কার্বারিগণ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় আঞ্চলিকদলগুলোর প্রতিনিধিরাও উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলো বলে জানাগেছে। আলোচনা সভায় সর্বস্মতিক্রমে এখন থেকে প্রতি রোববার বাঘাইহাট বাজারে সাপ্তাহিক হাট বসবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়িসহ বিভিন্ন এলাকার ফরিয়া ব্যবসায়িদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, আলোচনা সভা শেষে জনপ্রতিনিধি ও বাঘাইহাট বাজার ব্যবসায়িগন একটি আনন্দ মিছিল বের করে, মিছিলটি বাঘাইহাট বাজার পদক্ষিন করে আওমায়ীলীগ কার্যালয়ে এসে শেষ হয়, এসময় স্থানীয় উপজাতি ও বাঙ্গালী দের মধ্যে আনন্দ উদ্দীপনা দেখা দেয়, আগামীতে কোন ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা যাহাতে আর না ঘটে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহব্বান জানানো হয়।

প্রসঙ্গগত বিগত ২০১০ সালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ’র প্রত্যক্ষতায় ঐহিত্যবাহি বাঘাইহাট বাজারটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। এতে করে স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙ্গালী উভয় সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার ব্যবসায়িসহ লক্ষাধিক মানুষ ব্যাপক সংকটে পড়ে। চরমভাবে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয় স্থানীয়দের।

প্রশাসনিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, ২০১০ সালে বাঘাইহাটের সহিংস ঘটনা ঘটে। এতে নয়টি গ্রামের ৪১টি উপজাতীয় ও ৫৭টি বাঙালি পরিবারের বাড়িঘর পুড়ে যায়। সেসময় উক্ত সংঘর্ষে উভয় সম্প্রদায়ের অন্তত অর্ধশত নারী-পুরুষ আহত হওয়ার পাশপাশি দুই জন নিহত হওয়ার খবরও জানাগেছিলো।

এ ঘটনার পর পাহাড়ি-বাঙ্গালী উভয় সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়। উভয় মামলা অন্তত ২২৫জনকে আসামী করা হয়। পাহাড়িদের পক্ষে মামলা দায়ের করেছিলেন জনৈক উত্তম কুমার চাকমা ও বাঙ্গালীদের পক্ষে মামলা করেছিলেন বাঘাইহাট এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন। সেসময় এই ঘটনার জন্য বাঙ্গালীদের দোষারোপ করে বাঘাইহাট বাজারটি বয়কট করতে স্থানীয়দের বাধ্য করে সশস্ত্র তৎপরতায় লিপ্ত থাকা একটি আঞ্চলিক সংগঠন।