বিতর্কিতদের নিয়ে খাগড়াছড়ি পৌর আ’লীগের কমিটি গঠনের গুঞ্জন!

॥ আল-মামুন – খাগড়াছড়ি ॥

খাগড়াছড়িতে বিতর্কিতদের নিয়ে সদর পৌর আওয়ামীলীগে কমিটি গঠনের পরিকল্পনার গুঞ্জন উঠেছে। এ নিয়ে খাগড়াছড়ি রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানের নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ করছে স্থানীয় রাজনীতিবিদরা। ইতিমধ্যে পৌর আওয়ামীলীগের কাউন্সিলকে ঘিরে প্রকাশ্যে চলছে মূখোরোচক আলোচনাও। রয়েছে তর্ক-বিতর্কও। যোগ্য ব্যক্তিরা এ কমিটিতে স্থান পাচ্ছে কিনা তা নিয়েও চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে বিতর্কিতদের নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজ বুকে তথ্য সম্বলিত নানা পোষ্ট ও হাইব্রীডদের বাদ দিতে বিভিন্ন ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

নেতাকর্মীরা বলছেন, এক সময়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতন ও হামলাকারী বিএনপির নেতারা এখন আওয়ামীলীগে হাইব্রীড হলেও তারাই এখন নির্ভরযোগ্য হয়ে পড়ছে দলের কাছে। খাগড়াছড়ি আওয়ামীলীগে বির্তর্কিতদের প্রধান্য দিয়ে কমিটি গঠনের পায়তারাও অভিযোগ নেতাকর্মীদের। এভাবে চলতে থাকলে নেতাকর্মী শূন্য হওয়াসহ ত্যাগীরা দল থেকে সড়ে যাওয়ার সম্ভবনা শঙ্কা রয়েছে।

তাই বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের আগামী ১৭ নভেম্বর ২০১৯ রবিবার কাউন্সিলে সভাপতি-সম্পাদক নির্বাচনের দাবী জানানো হয়েছে। খাগড়াছড়িতে ত্যাগীরা পৌর আওয়ামীলীগে প্রার্থী হলেও তাদের পাশ কাঁটিয়ে যোগ্যদের বাদ দিয়ে কমিটির গঠনের বিষয়ে ক্ষুব্দ দলের নেতারা।

সভাপতি পদে এ কমিটিতে প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ যোগ্য নাম শুনা যাচ্ছে, উমেশ চাকমা,জসিম উদ্দিন, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো: ইকবাল বাহার,মো: ফরিদ,ডা.এমদাদুল হক লাবু,শিশির চাকমা ও মো: জাবেদ হোসেন। এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক পদে নাম শুনা যাচ্ছে, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মংসাপ্রু মারমা,পরিমল দেবনাথ,মো: শামীম,উজ্জল মারমা।

এদিকে সভাপতি পদ প্রত্যাশী মো: ইকবাল বাহার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দিয়ে দীর্ঘ পরিক্ষীত ত্যাগী ও দক্ষ ছাত্রনেতাদের হাতে পৌর আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব দিলে দল সু-সংগঠিত হবে বলে তিনি মত দেন। এ কমিটিতে বিতর্কিতদের সংগঠনের পদ না দেওয়ার দাবী জানান তিনি।

সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মংসাপ্রু মারমা জানান, দলের জন্য যারা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শ্রম দিয়ে গেছে এবং বঞ্চিতদের রাজনৈতিক সংগঠক তাদের পদ-পদবীতে স্থান দেওয়ার আহবান জানান।

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক,সাবেক পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি তপন কান্তি দে বলেন, গণতান্ত্রিকপন্থায় রাজনীতির সঠিক চর্চার মাধ্যমে ত্যাগী ও যোগ্যরা পদ-পদবীতে আসবে এমনটা প্রত্যাশা করে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে রাজনীতিতে সঠিক মূল্যায়ন না হলে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করার দাবী জানান।

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, জনেত্রীর নির্দেশনা অনুসারে দলের ত্যাগীরা স্থান পাবে এবং বিতর্কিতদের বিষয়ে যাছাই-বাছাই ও সিধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক চাইথোইঅং মারমা বলেন, সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বসে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে পৌর আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন নিয়ে সিধান্ত নেওয়া হবে।