রাঙামাটিতে পিএসসি’র প্রথমদিনে অনুপস্থিত ৩২০;বহিস্কার-৪৬

॥ আলমগীর মানিক-মাহিন ॥

সারাদেশের ন্যায় পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও শুরু হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। রোববার রাঙামাটি জেলায় প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১১ হাজার ৬শ ৭৭ শিক্ষার্থী। তারমধ্যে প্রথমদিনের পরীক্ষায় ৩৯৭ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলো। অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া প্রথমদিনের পরীক্ষায় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১১ হাজার ৩৮ জন।বাকি ৬৩৯জন ছিলো মাদ্রাসার ইবতেদায়ী বিভাগের। এদিনের পরীক্ষায় অসুদপায় অবলম্বনের দায়ে পুরো জেলায় ৪৬ জন শিক্ষার্থীকে বহিস্কার করা হয়েছে।

এদিকে কোনো পরীক্ষার্থী থাকায় রাঙামাটির জুড়াছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় রোববারের পরীক্ষায় কেউ অংশগ্রহণ করেনি। রোববার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে এসব তথ্য জানাগেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুসারে জানাগেছে, রোববার রাঙামাটির দুর্গমাঞ্চলের ১০টিসহ মোট ৮৩টি কেন্দ্রে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ইবতেদায়ি পরীক্ষার মাদ্রাসা কেন্দ্র-১০টি। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৩৯৩, ছাত্রী-৫ হাজার ৬৪৫জন। এদের মধ্যে ২৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে অসুদপায় অবলম্বনের দায়ে বহিস্কৃত হয়। অপরদিকে ইবতেদায়ি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সর্বমোট ৬৩৯জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৩৮৯, ছাত্রী ২৫০জন। রোববারের পরীক্ষায় ইবতেদায়ী বিভাগ থেকে বহিস্কৃত হয়েছে ১৯ শিক্ষার্থী।

রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথমদিনে রাঙামাটি সদর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সমাপনী পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো ২ হাজার ৪১জন। তার মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা-৯৭৫ ও ছাত্রী-১০৬৫জন। আজকের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলো ২৭ ছাত্র ও ১৯জন ছাত্রীসহ মোট ৪৬ পরীক্ষার্থী। সদর উপজেলায় ইবতেদায়ী’র ১২৪জন শিক্ষার্থী একটি মাত্র কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে ২৫ শিক্ষার্থী প্রথমদিনের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলো।

কাউখালী উপজেলায় মোট কেন্দ্রের সংখ্যা-৮টি। তার মধ্যে ইবতেদায়ী কেন্দ্র-২টি। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪৬৮পরীক্ষার্থী। তারমধ্যে ছাত্র-৬৮৬, ছাত্রী-৭৮২জন। এদের মধ্যে ৩৪জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলো। এদিকে উপজেলায় দুইটি ইবতেদায়ী পরীক্ষা কেন্দ্রে অংশ নেয় ১২৫ পরীক্ষার্থী। অনুপস্থিত ছিলো-১৪জন।

নানিয়ারচর উপজেলায় একটি ইবতেদায়ীসহ ৮টি কেন্দ্রে সর্বমোট ৮১১ পরীক্ষার্থী। অনুপস্থিত ছিলো ১৭জন। উপজেলায় প্রথমদিনে ৬৮৫ ছাত্র ও ৪২৬ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সেখানে ইবতেদায়ী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো-৩১জন। অনুপস্থিত ছিলো ২ পরীক্ষার্থী।

বরকল উপজেলায় মোট ৯০১জন পরীক্ষার্থী প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৪৭৬ ও ছাত্রীর সংখ্যা ৪২৫। তাদের মধ্যে একটি কেন্দ্রে ইবতেদায়ী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো-১২জন। বরকলে সর্বমোট ২৯ জন পরীক্ষার্থী রোববারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।

জুড়াছড়ি উপজেলায় সর্বমোট ৪০৩জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছে। উপজেলার ৪টি কেন্দ্রে ২০৭ ছাত্র ও ১৯৬ ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিলেও ১৫জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলো।

লংগদু উপজেলায় ১৩টি কেন্দ্রে সর্বমোট ১৬৮৭ শিক্ষার্থী প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তারমধ্যে অনুপস্থিত ছিলো ৮৭ শিক্ষার্থী। ৭৪৯জন ছাত্র ও ৯৩৮ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশনেয়। এই উপজেলাটিতে একটি মাত্র ইবতেদায়ী কেন্দ্রটিতে ১৯০জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১১টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো-১৫৯৮জন। তার মধ্যে প্রাথমিক সমাপনীতে ৭৭৬ ছাত্র ও ৭৬১ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ইবতেদায়ী একটি কেন্দ্রে অংশগ্রহণকৃত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬১জন। উক্ত উপজেলায় অনুপস্থিত ছিলো সর্বমোট ৬৬ পরীক্ষার্থী।

কাপ্তাই উপজেলার ৮টি কেন্দ্রে অংশ নিয়েছে ১১৩৯ পরীক্ষার্থী। তার মধ্যে দুইটি ইবতেদায়ী কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো ৩৯জন। বাকি ৬টিতে ৫২৮ ছাত্র ও ৫৭২ ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়। রোববারের পরীক্ষায় ৩১ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলো।

রাজস্থলী উপজেলায় তিনটি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সর্বমোট ৫৫৫ জন শিক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তার মধ্যে ৩০৮ ছাত্র ও ২৪৭ জন ছাত্রী। অনুপস্থিত ছিলো ১৬ শিক্ষার্থী।

বিলাইছড়ি উপজেলায় সর্বমোট ৪৮৭ পরীক্ষার্থী সমাপনী ও ইবতেদায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ৩টি সমাপনী কেন্দ্রে অংশনেয়াদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা-২৬৬ এবং ছাত্রী-২১৬জন। একটি মাত্র ইবতেদায়ী কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী ছিলো মাত্র ৫জন। চারটি কেন্দ্রে সর্বমোট ১৭জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলো।