যে মৃত্যু এক করেছে শিক্ষার্থীদের

॥ সৌরভ দে ॥

পাহাড়ি-বাঙালী সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে! কেউ ছাত্রলীগের রাজনীতি করে কেউ ছাত্রদল কেউ করে আঞ্চলিক রাজনীতি। তাদের কখনো এক কাতারে দেখা তো দূরের কথা প্রায় সময় দেখা যায় একে অপরের বিপরীতে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে কিন্তু আজ সবাই এক! তারা এক নিজ সহপাঠীর মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যে। সবার মুখে একটাই দাবী “আমার সহপাঠী, আমার বোনের ঘাতকদের বিচার চাই”।

সোমবার সকাল সোয়া দশটা থেকে রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের প্রবেশ মুখে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের উপর দেখা যায় এই বিরল দৃশ্য। এসময় ধর্ম-বর্ণ-জাত-পাত নির্বিশেষে বিভিন্ন মতাদর্শের কলেজ শিক্ষার্থীরা সহপাঠী এশিচিং মারমা’র হত্যার প্রতিবাদ ও ঘাতক চালকের বিচারের দাবীতে মানববন্ধনে একত্রিত হয়। শিক্ষার্থীদের দাবীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মানববন্ধনে যোগ দেন কলেজের অধ্যক্ষ মঈন উদ্দিনসহ সিনিয়র শিক্ষকরাও।

নিজের বক্তব্যে অধ্যক্ষ মঈন উদ্দিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের মনের ক্ষোভ ও দুঃখ আমি অনুভব করতে পারি। গতকাল এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম কিন্তু এশিচিং’র মৃতদেহ দেখে আমি আরো ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ি।

ঘাতক ট্রাক আটক হয়েছে উল্লেখ করে অধ্যক্ষ আরো বলেন, প্রশাসন ট্রাকটি আটক করলেও ঘাতক চালককে এখনো আটক করতে পারেনি। আজকে সময় এসেছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে আরো জোরদার করার। আমরা আর কোন এশিচিংকে হারাতে চাই না।

এইসময় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি কোন দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি হত্যাকান্ড। লাইসেন্সবিহীন চালক যাদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে কোন ধারনাও নেই তাদের দ্বারাই এই ধরণের ঘটনা বারবার হচ্ছে। এশিচিং’র মৃত্যু দায় সরকারও এড়াতে পারে না। সোনার বাংলাদেশ গড়তে সোনার ছেলেমেয়ে দরকার কিন্তু এভাবে দুর্ঘটনায় যদি এশিচিং’র মত সবাই মৃত্যুবরণ করতে থাকে তাহলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।

রবিবার সকাল সাড়ে দশটায় রানীর হাট থেকে সিএনজি অটোরিক্সা (চট্টগ্রাম-থ-১২-৮০২৭) যোগে রাঙামাটি শহরে পরীক্ষা দিতে আসার সময় বিপরীত দিক থেকে নামতে থাকা দ্রুতগতির একটি ট্রাক(চট্টমেট্রো-ট-১১-৮১৮৪) উক্ত সিএনজিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় এশিচিং মারমা। এই ঘটনায় একটি শিশুসহ আরো চারজন আহত হয়।

এদিকে এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ঘটনার দিন রাতেই সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে নিজেদের শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে শিক্ষার্থীরা। আজকের মানববন্ধনেও প্রতিফলন ঘটে সেই ক্ষোভের।