তৃণমূল কর্মীদের জন্যই সাধারণ সম্পাদক হতে চান মমতাজ

॥ ইকবাল হোসেন ॥

আসন্ন রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগ’র সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে হিসেবে নিজের প্রার্থীতা ঘোষনা করেছেন রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মমতাজুল হক। রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগ’র এই প্রবীণ নেতা দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন। মমতাজুল হক’র নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তিনি আওয়ামীলীগ’র যে পদগুলোতে দায়িত্বপালন করেছেন তা হলোঃ তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক হিসেবে ১৯৭৭-১৯৭৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।

আলাপকালে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানান, ১৯৮১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামীলীগ’র ৩৯ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির ১৫তম সদস্য ছিলেন (যা বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ মরহুম আব্দুর রাজ্জাক কর্তৃক অনুমোদিত)
১৯৮৩ সালে রাঙামাটিতে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন ( যা তৎকালীন যুবলীগ নেতা মরহুম আলহাজ্ব মহিউদ্দীন চৌধুরী কর্তৃক অনুমোদিত।
১৯৮৭ সাল হতে বর্তমানে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ রাঙামাটি জেলা শাখার প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে যখন স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন তখন তাকে রিসিভ করার জন্য রাঙামাটি থেকে যে ১৬/১৭ জন তরুন তাদের জীবনের পরোয়া না করে ঢাকায় গিয়েছিলো তাদের মধ্যে মমতাজুল হক ছিলেন অন্যতম। তার সাথে তখন যারা ছিলো তাদের মধ্য অন্যতমরা হলেন রুহুল আমিন (প্রবীণ), মাহফুজ (রেড ক্রিসেন্ট) কিন্তু সেসময় রাঙামাটির আওয়ামীলীগ’র অনেক উচ্চ পর্যায়ের নেতারা তখন শেখ হাসিনাকে রিসিভ করতে যাননি।

সুদীর্ঘ ৩৭বছরের এই রাজনৈতিক জীবনে এ পর্যন্ত কোন টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি বা নারী কেলেঙ্কারীর মতো জঘন্য কোন কাজের কলঙ্ক লাগেনি তার ইমেজে।

নিজের রাজনৈতিক আদর্শ সম্পর্কে গর্বের সাথে তিনি জানান, যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আজ থেকে ৩৭ বছর আগে নিজেকে জড়িয়েছিলাম অদ্যবধি সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করে বেঁচে আছি। যারা বর্তমানে দলের সাইনবোর্ড বিক্রি করে আজ আর্থিক ভাবে স্বচ্ছলতা অর্জন করেছে তাদের মতো আমি দলকে বিক্রি করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করিনি। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত যৎসামান্য সম্পদ দিয়ে আত্মসম্মান নিয়ে নিজেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে ধরে রেখেছি। বর্তমানে আমার তিন সন্তান বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে নিয়োজিত আছে।