ফলোআপ>রাজস্থলীতে ৩ খুনের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের

॥ আলমগীর মানিক ॥

রাঙামাটির রাজস্থলীতে হাত-পা বেঁধে মাথায় গুলি করে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনার দুইদিন পর পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতদের কোনো স্বজন নাথাকাসহ তাদের পরিচয় স্বনাক্ত না হওয়ায় রাজস্থলী থানার এসআই মোঃ শাহআলম বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেছেন।

রাজস্থলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মফজল আহাম্মদ খান বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ছয়টার সময় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দন্ড বিধি ৩০২/৩৪ধারায় বুধবার রাতে রাজস্থলী থানায় দায়েরকৃত মামলা নাম্বার-১। তারিখ: ২০/১১/২০১৯ইং। থানার ওসি তদন্ত ছৈয়দ ওমরকে উক্ত মামলাটি তদন্তভার প্রদান করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত: গত সোমবার সন্ধ্যারাতে রাজস্থলী উপজেলার বালুমুড়ার মারমা পাড়া এলাকায় অজ্ঞাতনামা তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছিলো রাজস্থলী থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবরপেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের হাত ও পা বাঁধা অবস্থায় তিন ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত তিনজনকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস এর সক্রিয় সদস্য জানিয়ে স্বজাতীয় সন্ত্রাসীদের হাতেই তারা নিহত হয়েছে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি। কিন্তু জেএসএস এর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, নিহতরা সকলেই নীরিহ এবং তারা বান্দরবানের বাসিন্দা।

জনসংহতি সমিতির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সংবাদ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত জানিয়ে উল্লেখ করা হয়, ১৮ নভেম্বর সকালে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দল ও নিরাপত্তাবাহিনীর সমর্থিত দলচ্যুত আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি)-এর একটি গ্রুপ অস্ত্রশস্ত্রসহ মদ্যপ অবস্থায় বান্দরবান জেলার সদর উপজেলার রাজভিলা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ৮নং নোয়াপাড়া গ্রামে প্রবেশ করে। প্রবেশ করেই তারা এলাকার যুবক ও পুরুষদের ধরপাকড় শুরু করে এবং তাদেরকে মারপিট করতে থাকে।

অবশেষে বিকালে নোয়াপাড়ার কার্বারী (গ্রাম প্রধান) মোনারাম তঞ্চঙ্গ্যা (৫৫) ও তার ছেলে সুখমণি(শুক্রমনি) তঞ্চঙ্গ্যা (৩২) সহ চারজন গ্রামবাসীকে অস্ত্রের মুখে ধরে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে একজনকে ছেড়ে দিলেও মোনারাম তঞ্চঙ্গ্যা ও সুখমণি তঞ্চঙ্গ্যাসহ বাকী তিনজনকে সন্ধ্যার দিকে গাইন্দা ইউনিয়ন ও রাজভিলা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বালুমুড়া স্থানে নিয়ে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করে।