ভূমি কমিশনের সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়াটা বাড়ছেঃ রাজা দেবাশীষ রায়

॥ সৌরভ দে ॥

ভূমি সংক্রান্ত যেসব বিরোধ রয়েছে সেসবের জটিলতা, ব্যাপকতা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে আমরা যারা ভূমি কমিশনের সদস্য আছি আমাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা বাড়ছে। ২৭ নভেম্বর বুধবার রাঙ্গামাটি সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত পার্বত্য ভুমি কমিশনের ৬ষ্ঠ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান চাকমা সার্কেল চীফ রাজা দেবাশীষ রায়।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে আরো বলেন, আমরা আশাবাদী খুব শীঘ্রই একটি ন্যায্য শুনানীতে পৌছুতে পারবো এবং বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পরিষদ যে পরামর্শগুলো দিয়েছে তা যেন সরকার গ্রহণ করে।

নিজের বক্তব্যে রাজা বাবু আরো বলেন, দুইপক্ষকে ১০০ভাগ কখনোই সন্তুষ্ট করা সম্ভব না হলেও অন্তত একটি ন্যায্য সমাধান হবে। এই কাজটি সুসম্পন্ন করা গেলে শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম বা বাংলাদেশ না সমগ্র বিশ্বে এটি একটি নজির হয়ে থাকবে যে কোন উকিল বা দেওয়ানী কার্যবিধি ছাড়াও সুবিচার করা যায়।

এদিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান অবসর প্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ার উল হক বলেছেন, এযাবতকালের সকল মিটিং এর মধ্যে এটিই সবচেয়ে স্বার্থক মিটিং। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই রাঙামাটি জেলা পরিষদের নবনির্মিত ভবনে ভূমি কমিশনের শাখা অফিস নিয়েছি। এই অফিসের মাধ্যমে শীঘ্রই ভূমি বিরোধের অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করবে ভূমি কমিশন।

আগামী ২৩শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকে উক্ত বাছাইকৃত আপত্তিগুলোর শুনানীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান।

এই বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমা, রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা ও চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পার্বত্য বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা থেকে কেউই অংশগ্রহণ করেননি। এর আগে চলতি বছরের গত ১২ই সেপ্টেম্বর রাঙামাটি সার্কিট হাউসে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের বর্তমান কমিটির ৫ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।