লক্ষ্মীছড়িতে ভূমি বিরোধে বিপাকে অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি!

॥ আল মামুন ॥

পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বিরোধ নতুন কিছু নয়। তারই সূত্র ধরে খাগড়াছড়ির প্রত্যান্ত জনপদ লক্ষ্মীছড়িতে দুপক্ষের মধ্যে ভূমি বিরোধের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জায়গা ক্রয়-বিক্রয় দালালরা ফায়দা লুটছে। ফলে ভূমি বিরোধ আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। ভূমি ক্রয়কে কেন্দ্র করে এমনি একটি ঘটনায় বৃদ্ধা দম্পতির অসহায়ত্বের খোঁজ পাওয়া গেছে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ময়ুরখীল এলাকায়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মকবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তির দালাল চক্রের হাত থেকে জায়গা ক্রয় করে প্রতারণার শিকার হয়। অন্যদিকে জায়গার প্রকৃত মালিক সন্তানহীন ময়ুরখীলের বাসিন্দা মো: আবুল বাশার মুন্সি ও মলিনা বৃদ্ধ দম্পতির কিছু জায়গা দখল নিয়ে এখন রয়েছে বিপাকে। তবে তাতে রয়েছে পাল্টাপাল্টি নানা অভিযোগও।

এক পক্ষ অপর পক্ষকে দুষলেও কয়েক জন ভূমি দালাল চক্রের কারণে ত্রিমূখী সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ মকবুল হোসেনের। তবে বৃদ্ধ দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ঐ এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, মকবুল অত্যাচারের অতিষ্ঠ সন্তানহীন বৃদ্ধ দম্পতি এখন প্রায় নি:স্ব। সে সামাজিক ও প্রশাসনিক কোন রায়ের পরও মিথ্যা মামলার ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসীও।

১৯৮৩-৮৪ সালের কবুলিতের ৫ একর জায়গায় মো: আবুল বাশার লক্ষ্মীছড়িতে বসবাস শুরু করে। তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে দিয়ে প্রথম তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর কাছ থেকে অল্প টাকায় হাতিয়ে নিতে প্রতারক চক্রের কৌশলে কাগজ করে নেয়। পরে মো: আবুল বাশার মুন্সি জীবিত অবস্থায় তার জায়গা বিক্রয় না করলেও সেখানে ভূমি নিয়ে নানামূখী সমস্যার সৃষ্টি হয়। সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কয়েকজনের সুবিধাবাদী একটি চক্র (ভূমির ক্রেতা-বিক্রেতা) কৌশলে অসহায়ত্বের সুযোগে মো: আবুল বাশার মুন্সিকে চাঁপ দিয়ে দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় বলে অভিযোগ আনেন তার স্ত্রী মলিনা বেগম।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মকবুল হোসেন বলেন, আমি স্থানীয় রায় ও প্রশাসনিক বৈঠকের রায় মানতে রাজি তবে একটি কুচক্রি মহল যৌথ বিরোধ মিমাংসায় বাঁধা বলে তিনি উল্লেখ করেন। দখল হওয়া জায়গা উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরলেও ঐ দম্পতি এখন প্রায় পরাস্থ। ফলে অসহায় ও মানবেতর জীবন যাপন করছে পরিবারটি। মিথ্যা একটি মামলার ফলে পরিবারটি হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে সামাজিক ব্যক্তিরা অভিযোগ তুলেন।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি জানান, সত্যিকার অর্থেই ভূমির মালিক মো: আবুল বাশার মুন্সি। মকবুল হোসেন নামের অর্থশালী সে ক্ষমতাধর যুবদল নেতা হওয়ায় সন্তানহীন এ দম্পত্তির জায়গা দখল করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে মো: আবুল বাশার মুন্সির দখলিয় ভূমি উদ্ধারে এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরিত একটি কাগজ প্রশাসনের দপ্তরে দিলেও তাও যেন এখন পর্যন্ত অকার্যকর। ময়ুরখীল সমাজ সভাপতি মো: ছগির হোসেন এ ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়ে সন্তানহীন দম্পতির বিরুদ্ধে করা অবিচারের শাস্তির দাবী জানান।

জায়গা দখলে অভিযুক্ত মকবুল তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,জায়গাটি আমি কয়েক দফায় ক্রয় করেছি। সে জায়গা ক্রয়ের স্বপক্ষে ১শ টাকার ষ্টাম্প দেখিয়ে সামাজিক ভাবে বিরোধ মিমাংসা করে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চাই জানিয়ে বলেন আমি ও জমির মালিক সম্মত হলেই তা সম্ভব। এতে তৃতীয় একটি পক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাঁসিলের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তুলেন।

এ বিষয়ে নিরপেক্ষ ভাবে সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রশাসনের যথাযথ হস্থক্ষেপ ও ভূমি বিরোধ নিস্পত্তিতে স্থানীয় সহায়তা চাই সচেতন এলাকাবাসী।