সরকারি আমলা-ঠিকাদার দ্বন্দে ৮ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি কোটি টাকার প্রকল্প!

॥ ওমর ফারুক সুমন ॥

বাঘাইছড়িতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে বাস্তবায়িত পৌরসভা সদরে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পটি ৮ বছরেও আলোর মূখ দেখেনি। ফলে ২২.৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে বসবাস করা ৬৮ হাজার মানুষ চরম নিরাপদ পানির সংকটে পড়েছে। দীর্ঘ ৮ বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় এরই মধ্যে অনেক মূল্যবান যন্ত্রপাতি ইলেক্ট্রিক ট্রান্সফরমার, লোহার পাইপ নষ্ট হয়ে গেছে। আশ পাশে ঘন জঙ্গলে আচ্ছাদিত হয়ে এক ভুতুরে পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

পৌরসভার জনসাধারনের বিশুদ্ধ পানির চাহিদার কথা মাথায় রেখে ২০১১ সালে সরকারী এই প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে তৎকালীন পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপঙ্কর তালুকদার এমপি এই প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ওই বছরেই টেন্ডারের মাধ্যমে রাঙ্গামাটির স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্টান ইউ এম ট্রেডার্স কাজটি শুরু করে উপজেলা সদর ও মুসলিম ব্লক এলাকায় দুইটি পাকা ভবন, দুইটি গভীর নলকূপ, এবং পৌর এলাকায় মাটির নিচে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করে কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগসহ কিছু কাজ বাকী থাকতেই থমকে যায় পুরো প্রকল্পের কাজ।

সংশ্লীষ্ট ঠিকাদারের প্রতিনিধি সঞ্জয় ধর অভিযোগ করেন, কাজ চলাকালীন রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধ্বস সংঘটিত হয় এতে করে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে ফলে মালামাল পরিবহনে ব্যাঘাত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বেঁকে বসেন এবং ঠিকাদারের প্রতিনিধি সঞ্জয় ধরের নিকট ২ লক্ষ টাকা কমিশন দাবী করেন। ঠিকাদার ৫০ হাজার টাকা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে বাকি টাকা দিতে অপারগ হলে প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক উক্ত কাজের ফান্ডটি বাজেয়াপ্ত করে টাকা ফেরত পাঠিয়ে দেন মন্ত্রনালয়ে।

এদিকে জেলা পরিষদ ও মন্ত্রনালয়ে বার বার তদবির করেও মন গলাতে ব্যার্থ হয়ে এখন বিশাল ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কিন্তু কোন সদুত্তর খুজে পাচ্ছেনা বলে দাবী করেন সঞ্জয় ধর। ফলে ৮ বছর আগে সরকারী ভাবে বরাদ্দ ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা জনগনের কোন কাজেই আসছে না। এদিকে বিশুদ্ধ পানির সংকট দিন দিন তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে, তাই বাঘাইছড়িবাসী তথা সচেতন মহলের একটাই দাবী অতিদ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে নিরাপদ পানির ব্যাবস্থা উদ্যোগ গ্রহন করবে পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়।

বিষয়টি নিয়ে বাঘাইছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাকের সাথে কথা বলতে তার কার্যালয়ে গিয়ে না পেয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থ বাবার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন বলেন। ঠিকাদারের কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা দাবী এবং ৫০ হাজার টাকা গ্রহনের বিষয় সঠিক নয় বলে দাবী করেন। তিনি দাবী করেন ঠিকাদার নিজে সুবিধে নিতেই এই অযৌক্তিক কথা বলছে।

নিজেকে নির্দোষ দাবী করে আব্দুর রাজ্জাক আরো বলেন, আমি যদি ৫০ হাজার টাকা নিয়ে থাকি তাহলে ঠিকাদারকে ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট দেখাতে বলেন। তিনি দাবী করেন দীর্ঘ ৫ বছরেও ৩ জন ঠিকাদার পরিবর্তন করে কাজ শেষ করতে না পারায় আমি সরকারী কোষাগারে ৩৩ লক্ষ টাকা ফেরত পাঠিয়েছি এখানে আমার কোন অবহেলা নেই থাকলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের রয়েছে। প্রকল্পটি পূনরায় চালুর ব্যাপারে কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন এমন প্রশ্নে প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বলেন বিষয়টি আমি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি এখন প্রকল্প আবার চালু করা উনার এখতিয়ার।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।