বিক্রমকে হত্যা করেছে সংস্কারপন্থীরা;ছদ্মনামে চালাতো আঞ্চলিকদলের কার্যক্রম!

॥ আলমগীর মানিক ॥

রাঙামাটির বড়াদমের আওলাদ বাজারে স্বজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে নিহত হওয়া বিক্রম চাকমাকে সংস্কারপন্থী জেএসএস এর সন্ত্রাসীরাই হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস। রোববার রাতে সংগঠনটির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা স্বাক্ষরিত প্রদত্ত এক প্রেস বার্তায় এই অভিযোগ করা হয়।

রোববার দিবাগত রাত ১০টা ১১ মিনিটে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের ইমেইলে পাঠানো উক্ত প্রেস বার্তায় উল্লেখ করা হয়, আজ রাঙ্গামাটি জেলার মগবান ইউনিয়নের বড়াদম এলাকায় সংস্কারপন্থী খ্যাত একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অস্ত্রশস্ত্রসহ স্পীডবোট যোগে এসে বিক্রম চাকমা নামে জনৈক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে। কোন কোন অনলাইন নিউজপোর্টেলে ও জাতীয় পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে নিহত বিক্রম চাকমাকে জনসংহতি সমিতির চাঁদা কালেক্টর এবং চাঁদা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে কল্পিত সংবাদ প্রচার করা হয়।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জনসংহতি সমিতি কোন ধরনের চাঁদাবাজি বা চাঁদা ভাগাভাগির সাথে সম্পৃক্ত নয়। নিহত বিক্রম চাকমাকে জনসংহতি সমিতির চাঁদা কালেক্টর সাজিয়ে সংবাদ প্রচার করার অপচেষ্টা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-প্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে জনসংহতি সমিতি মনে করে।

এদিকে, একটি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, নিহত বিক্রম চাকমা রাঙামাটি শহরের রাঙাপানির বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানাগেলেও তার প্রকৃত নাম কমল বিকাশ চাকমা(৩৬), তার স্ত্রী বিপুলা চাকমা(৩১)। পিতাঃ মৃত. বিমলানন্দো চাকমা, মাতা: রত্নামালা চাকমা, গ্রামঃ বিলাইছড়ি, কেরংছড়ি ইউনিয়ন। বর্তমান ঠিকানাঃ ভেদভেদী(কালিবাড়ী শেষমাথা) কোতোয়ালি, রাঙামাটি সদর উপজেলা। নিহত বিক্রম ওরফে কমলরা সর্বমোট ছয় ভাইবোন। তাহার ১ ছেলে এবং ১মেয়ে রয়েছে। সাংগঠিকভাবে তাকে বিক্রম ওরফে সমর বলেও চিনতো অনেকেই।

উল্লেখ্য, রোববার দুপুরে ব্রাশ ফায়ার করে বিক্রমকে হত্যা করে স্বদর্পে পালিয়ে যায় ৪/৫ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ। স্থানী গ্রামবাসিরা জানায়, আমরা পেছন দিকে দেখেছি। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে রাইফেলের চার রাউন্ড গুলির খোসা পড়ে থাকা অবস্থায় পেয়েছে পুলিশ। নিহতের দুই হাতে, বুকের এক পাশে গুলির চিহ্ন দেখা গেছে।

স্থানীয় দোকানীরা জানিয়েছে, কয়েকজন মুখোশপড়া পাহাড়ি যুবক সশস্ত্র অবস্থায় বিক্রমকে নিয়ে এসে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এসময় ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, অন্তত ৫ থেকে ৬ রাউন্ড গুলির আওয়াজ তারা শুনেছেন।

এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র থেকে জানাগেছে, নিহতের নাম বিক্রম চাকমা ওরফে সুমন চাকমা। তার বাড়ি রাঙামাটি শহরের রাঙ্গাপানি এলাকায়। এইচএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা বিক্রম জেলার কাউখালী ও ঘাগড়া এলাকায় চাঁদা আদায়ের কাজ করতো। কয়েক মাস আগে রাঙামাটির শীর্ষ চাঁদাবাজ জ্ঞান শংকর চাকমা নিহত হওয়ার পর তার স্থানে দায়িত্ব পায় বিক্রম। পরবর্তীতে সে চীফ কালেক্টর হিসেবে কাজ করতো। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মুখে নিজ এলাকা থেকে সটকে গিয়ে আত্মগোপনে ছিলো বিক্রম।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, স্বগোত্রিয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতেই নিহত হয়েছে বিক্রম চাকমা। রোববার ভোর রাতের কোনো এক সময় তাকে গুলি করে হত্যা করে বড় আদমের অদূরে একটি দোকানের পেছনে লাশ ফেলে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা।

শান্তি চুক্তির ২২ তম বর্ষপূর্তির ১ দিন আগে এ ঘটনায় এলাকার স্থানীয় মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।