২২ বছরেও শান্তিচুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়িত না হওয়ায় পাহাড়ি নেতাদের ক্ষোভ!

॥ সৌরভ দে ॥

২২ বছরেও সরকার শান্তি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। যার ফলস্বরুপ পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করেন সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার।

তিনি বলেন, পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোরও যে ভুল-ক্রুটি নেই সেটি আমরা দাবী করছি না। আমরাও মানুষ এবং আমাদেরও ভুল ক্রুটি রয়েছে। এটি শুধরে দেওয়ার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর। সোমবার ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কর্তৃক আয়োজিত রাঙ্গামাটি জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে  এক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন ঊষাতন তালুকদার।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, অনেকেই নিজ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আপনাকে ভুল বুঝাবে,  আপনাকে দ্বিধাদ্বন্দে ফেলার চেষ্টা করবে। আপনি কারো কথায় না ভুলে সাহস নিয়ে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসুন। এই বিজয়ের মাসে শান্তি চুক্তির অন্তত একটি মৌলিক ধারা বাস্তবায়ন করুন।

এদিকে উক্ত সভায় প্রতিটি পাহাড়ি নেতা-নেত্রীর ভাষণে ক্ষোভ পরিলক্ষিত হয়।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকা চাকমা বলেন, শান্তি চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো বাস্তবায়ন না করে লোক দেখানো এই শান্তি সম্প্রীতির কনসার্টকে আমি ঘৃণার চোখে দেখি।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি জুয়েল চাকমা বলেন, গুনে গুনে  ২২টি  বছর  অতিবাহিত হলেও  সরকার  প্রতিনিয়ত  পার্বত্য  চুক্তি  বাস্তবায়ন  নিয়ে  তালবাহানা  করছে। এই চুক্তি যদি  বাস্তবায়ন  না  হয়  তাহলে পাহাড়ি  জনগন  বিকল্প ব্যবস্হা নিতে  বাধ্য  হবে।

জনসংহতি সমিতির সদস্য শ্যামরতন চাকমার সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা,  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম, এম এন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের আহবায়ক বিজয় কেতন চাকমা,  পার্বত্য চট্টগ্রাম যুবসংহতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অরুন ত্রিপুরা,  পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সভাপতি জুয়েল চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকা চাকমা।

উক্ত আলোচনা সভায় বিভিন্ন উপজেলা হতে আগত প্রায় ২ সহস্রাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।