জুরাছড়ির প্রথম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ঃ ২০২০ সালে শুরু হবে পাঠদান

॥ স্মৃতিবিন্দু চাকমা ॥

পার্বত্য চট্রগ্রামের রাঙ্গামাটি জেলাধীন দূর্গম জুরাছড়ি উপজেলা। জুরাছড়ি উপজেলার জনসংখ্যা হচ্ছে প্রায় ত্রিশ হাজারের অধিক। এই উপজেলার আয়তন হচ্ছে ৬০৬-০৫ বর্গ কিলোমিটার। ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী জুরাছড়ি উপজেলার শিক্ষার হার ৪৬.৮০%। তাই শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষে জুরাছড়ি উপজেলার সর্বস্থরের জনসাধরণের সার্বিক সহযোগিতায় ডেবাছড়া এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে জুরাছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ে নব যাত্রায় ২০২০ সালে ক্লাস শুরু হলে জুরাছড়ি উপজেলার আরো একধাপ শিক্ষার মান এগিয়ে যাবে।

জুরাছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি চারু বিকাশ চাকমা জানান, ১৯৯৪ সালে আমার উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছিল খাগড়াছড়ি নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দীর্ঘ বছর পর বর্তমানে এই বিদ্যালয়টি গত ২৫ নভেম্বর ২০১৯ শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক লিখিত চিঠির মাধ্যেমে মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এজন্য তিনি জুরাছড়ি উপজেলাবাসীর পক্ষ হয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশা-পাশি এই বিদ্যালয়ের পাঠদানের অনুমোদনের জন্য সর্বত্তাক সহযোগিতা দিয়েছেন জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান আমরা তার প্রতিও অশেষ কৃতজ্ঞ।

চারু বিকাশ চাকমা আরো জানান, একটি প্রবাদ বাক্য আছে কীর্তিমানের মৃত্যু নেই, প্রত্যন্ত এই দূর্গম জুরাছড়ি উপজেলার শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষে এবারে নতুন ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে জুরাছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় থেকে আগামীতে অনেক সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উচ্চ শিক্ষা লাভ করে দেশ এবং জাতির কল্যাণে অগ্রনী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

জুরাছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা জানান, এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যারা উদ্যোগ নিয়েছিলেন আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়াতে শিক্ষার মান জুরাছড়ি উপজেলায় আরো একধাপ এগিয়ে আসবে এমনটি মন্তব্য করেন।এছাড়া তিনি আরো বলেন, আমরা চাই আমাদের এলাকার ছেলেমেয়েরা শিক্ষার আলোক বর্তিকা হিসেবে গড়ে উঠে দেশের কল্যানে এগিয়ে আসুক,পাশা-পাশি এই বিদ্যালয়ের উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

জুরাছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রবর্তক চাকমা থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান, এইটি অত্যন্ত একটি ভালো উদ্যোগ, অন্যান্য উপজেলায় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থাকলে ও জুরাছড়ি উপজেলায় কোন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নেই। এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়াতে অনেক মেধাবী ছাত্রী গড়ে উঠবে। বর্তমান সরকার শিক্ষার প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক,বর্তমান মাননীয় সাংসদ দীপংকর তালুকদার ও অত্যন্ত শিক্ষানুরাগী তার নামে ও উদ্যোগে বিলাইছড়ি উপজেলায় ইতিমধ্যে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি দৃঢ় আশাব্যক্ত করেন যে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সহ সকল ক্ষেত্রে তার, পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মাননীয় মন্ত্রী,পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাননীয় চেয়ারম্যান ও রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছ থেকেও সর্বাত্তক সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

জুরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যানন চাকমা জানান, বর্তমান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জুরাছড়ি উপজেলা যোগদানের পর থেকে জুরাছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তরিকভাবে এবং স্ব উদ্যোগে সহযোগিতা দিয়ে আসছেন।এজন্য আমরা জুরাছড়ি উপজেলাবাসী নির্বাহী অফিসারের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা আশাকরি সকল প্রশাসন এই বিদ্যালয়টির জন্য সর্বাত্তক সহযোগিতা দিয়ে যাবেন।

এছাড়াও এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাবেক যুবলীগের সভাপতি সুমতি বিকাশ দেওয়ান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পেছনে আর্থিক,কায়িক মানসিক ভাবে সর্বাত্তক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। সুমতি বিকাশ দেওয়ান বলেন,আমার জীবনের একটাই স্বপ্ন,এই বিদ্যালয় থেকে এলাকার মেয়ে উচ্চ শিক্ষা লাভ করে কোন একসময় যদি ভালো সুনাম বয়ে আনতে পারেন,সেদিন আমি নিজেকে গর্বীত বোধ কনে করব।