পাহাড়ের দুঃস্থদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ

॥ ইকবাল হোসেন ॥

২০১৭ সালের শুরুর দিকে “স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন” এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কামাল হোসেন চাকুরীর সুবাদে রাঙামাটিতে ছিলেন। সেইবছর ১৩ই জুন রাঙামাটিতে স্মরণকালের ভয়াবহ ট্রাজেডি পাহাড় ধ্বস হয়। তখন সর্বপ্রথম ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে আসে “স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন”। ত্রান বিতরনে সহযোগিতা করে বিভিন্ন মানবিক সংগঠন সমূহকে। এরপর থেকেই শুরু হয় মানবতার তরে তাদের রাঙামাটিতে অগ্রযাত্রা। কিছু তরুণ স্বপ্নবাজ নিয়ে গঠিত হয় “স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন” রাঙামাটি জেলা শাখা।

একের পর এক সামাজিক, মানবিক ও যুব উন্নয়নমূলক কাজের সূচনায় সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন স্বপ্নবাজরা, কাজের ধারাবাহিকতায় সারাদেশে সংগঠন যখন মানবতার ঝান্ডা উড়াচ্ছে ঠিক তখনি একদিন কামাল হোসেন, আহমেদ ইসতিয়াক (আজাদ), মোঃ আলাউদ্দিন, রমজান আলী, কামাল উদ্দীন, ঈমাম হোসেন ও উপলব্ধি করলেন এই শহরের অবহেলিত অঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্যে অন্তত একটি স্কুলের প্রয়োজন যেটি বিনামূল্যে পাঠদানের পাশাপাশি সামাজিক, নৈতিক, মানবিক ও সাংস্কৃতিক দীক্ষা দিবে। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাস টার্মিনালের শান্তিনগর এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বর্তমান সময়ে রাঙামাটির শহরের একমাত্র বিনা মূল্যে আলোকিত পাঠদানকারী ব্যতিক্রমী শিক্ষা প্রতিষ্টান সকলের প্রিয় “স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ-১”।

উক্ত বিদ্যাপীঠের শুভ উদ্বোধন করেন বর্তমান মেয়র(ভারপ্রাপ্ত) জামাল উদ্দীন। এখন অব্দি এই বিদ্যাপীঠ পরিচালিত হচ্ছে “স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন” রাঙামাটি জেলার সদস্যদের মাসিক ফি, কিছু সংখ্যক শুভাকাঙ্ক্ষী ও পূর্বে কেন্দ্রের সাপোর্ট । অত্র বিদ্যাপীঠ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একজন শিক্ষিকা, প্রতি বছর ৪৫/৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এই বিদ্যাপীঠে। তাদেরকে দু’টি ব্যাচে বিভক্ত করে পড়ানো হচ্ছে। সপ্তাহে শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৯-১১ টা পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস হয়। এইখানে প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের মাঝে বই,খাতা, স্কুল ব্যাগ, শীতবস্ত্র্র, ঈদ বস্ত্র, পহেলা বৈশাখ উদযাপন হয় এবং পরিদর্শনে নিয়মিত নাস্তা প্রদান করা হয়। বছরে ২বার মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রতি বছরে বিভিন্নভাবে বিদ্যাপীঠে বাচ্চাদের অংশগ্রহনে বিকাশ মূলক নানা অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়ে থাকে। বছরে বেশ কয়েকবার অভিভাবকদের সাথে মত বিনিময় সভা করা হয়।

স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ-১ বিষয়ে জানতে চাইলে “স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন” রাঙামাটি জেলা’র সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইসতিয়াক (আজাদ) বলেন, রাঙামাটির মফস্বল শহরে গরীব অসহায় প্রাণের প্রিয় স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ-১ সুন্দর ও সফলভাবে এখনো চলমান আছে। প্রথম দিক থেকে এই পর্যন্ত আমাদের পাশে থেকে যারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছিলেন আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা সবসময় আছে থাকবে। আমাদের সূদুর চিন্তাভাবনায় আমরা অনেকটা এগিয়েছি আমরা আমাদের স্বপ্নের “স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ-২” এর কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ করেছি। আমাদের পরিচালনা কমিটিও গঠিত হয়েছে, আমরা সামনের বছর জানুয়ারি মাস থেকে এইখানে ফ্রিতে যেসকল গরীব মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে ৩য় শ্রেনী হতে ৮ম শ্রেনীর উক্ত শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পাঠদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ তবে সবকিছু মিলে রাঙামাটিতে বিশেষ সহায়তা বা সহযোগিতা পেলে সকলের ভালোবাসা নিয়ে আমরা প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে বিদ্যাপীঠ গঠন করবো বলে আশা রাখি৷ আমরা চাই স্বেচ্ছাসেবী মনমানসিকতার আর শহরের দায়িত্বশীলদের ভালোবাসার দৃষ্টিকোন দিয়ে অনেককিছুই পরিবর্তন করতে। তাদের সহযোগিতা ও ভালবাসায় এই বিদ্যাপীঠ টিকে থাকবে সেটাই প্রত্যাশা এবং আগামীতেও পথে প্রান্তরে শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা রাখবে স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ।