চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে রশিদের!

॥ বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি ॥

বাঘাইছড়িতে অসহায় মেধাবী এক ছাত্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির দায়িত্ব নিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু।

উপজেলার পশ্চিম মুসলিমব্লক গ্রামের হত দরিদ্র দিনমজুর মাইনুদ্দিনের ছেলে মামুনুর রশিদ এবার চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরিক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ক্যামিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পায় কিন্তু অসহায় দিনমজুর হতদরিদ্র বাবা মাইনুদ্দিনের পক্ষে ৫ ছেলেমেয়ের ভরণপোষণ মিটিয়ে ছোট এক মাত্র ছেলে অদম্য মেধাবী ছাত্র মামুনুর রশিদের ভর্তির টাকা যোগান দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এক প্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে রশিদের।

দিশেহারা মামুন বিষয়টি তার সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করলে, তার দুই সহপাঠি সুমন ও মাসুম রানা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতুকে জানায়। এতেই সকল শংকা দূর হয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেধাবী ছাত্র মামুনুর রশিদকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে তার পরিবারের খোজ খবর নিয়ে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যাপারে সহযোগীতার আশ্ব্যাস প্রদান করেন।

৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ ঘটিকায় মেধাবী ছাত্র মোঃ মামুনুর রশিদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন আহসান হাবিব জিতু। এসময় তার দুই সহপাঠিও উপস্থিত ছিল। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু রশিদের মঙ্গল কামনা করে বলেন, পড়াশোনা করে অনেক বড় একজন ভালো মানুষ হবে। বাবা মায়ের মুখ উজ্জল করবে। যে কোন সময় কোন সমস্যায় পড়লে আমার সাথে যোগাযোগ করবে তোমার জন্য আমার দোয়া সবসময় থাকবে।

উল্লেখ্য যে উপজেলার পশ্চিম মুসলিমব্লক গ্রামের দিনমজুর হতদরিদ্র বাবা মাইনুদ্দিনের ৫ সন্তানের মধ্যে একমাত্র ও ছোট ছেলে মামুনুর রশিদ ২০১৭ সালে কাচালং সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি পরিক্ষায় জিপিএ ৪.৫০ এবং ২০১৯ সালে খাগড়াছড়ি ক্যান্টেলম্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএইচসি পরিক্ষায় জিপিএ ৪.৪৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে ক্যামিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়।

ভর্তির ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতা পেয়ে কৃতজ্ঞ মামুনুর রশিদ বাঘাইছড়িবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে।