ব্রেকিং নিউজ

আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস পালন করলো জীবন

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস পালন করেছে রাঙ্গামাটির স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান জীবন। এবছর আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস ২০১৯ এর প্রতিপাদ্য “অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের জন্য স্বেচ্ছাসেবা”। এটি স্বেচ্ছাসেবীদের অন্তর্ভুক্তিকরণমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১০ এর উপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১০ হচ্ছে বৈষম্য হ্রাস যা মূলত দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় বৈষম্য হ্রাস করাকে উৎসাহিত করে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ১৯৮৫ সালের ১৭ ডিসেম্বরের অধিবেশনে প্রতি বছর ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস পালনের জন্য সরকার সমূহকে আহবান জানানো হয়। জীবনের সর্বত্র স্বেচ্ছাসেবীদের অবদান সম্পর্কে গণসচেতনতা এবং ঘরে ও বাইরে স্বেচ্ছাসেবায় অধিক সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে উৎসাহ প্রদান, আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করবে বিশ্বের হাজারো স্বেচ্ছাসেবী৷ এবারো পার্বত্য রাঙামাটিতে গতবছরের ধারাবাহিকতায় দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচীর অধীনে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন জীবন এই কর্মসূচীর স্থানীয় আয়োজক।
জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচি (ইউ এন ভি) এমন একটি সংস্থা যা বিশ্বব্যাপী, উন্নয়নের লক্ষ্যে এবং শান্তি রক্ষার্থে স্বেচ্ছাসেবী মনোবৃত্তিকে উদ্ধুদ্ধ করে । ইউ এন ভি হল , জার্মান ভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থা। ১৩০ টি দেশে তারা সক্রিয় রয়েছে এবং ৮৬ টি দেশে তাদের ফিল্ড ইউনিট রয়েছে। তারা জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (ইউএনডিপি) এর দপ্তরের সাহায্যে তাদের কার্যক্রম প্রচার করে এবং ইউএনডিপি এর কার্যনির্বাহী বোর্ডের নিকট প্রতিবেদন পেশ করে।
শহরের পিছিয়ে পরা একটি জনপদকে সাধারণ জীবনধারায় ফিরাতে রাঙামাটি শহরের রুপনগরে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচী পরিচালনা করে ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী। মূলত স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের মাধ্যমে বৈষম্য দূরীকরণে এটি একটি প্রচেষ্টা মাত্র। দুইটি দলে বিভক্ত হয়ে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয় সাধারণ জনগণের মাঝে। পশ্চাৎপদ এই জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্য সচেতনতার গুরুত্ব বিশেষ করে তাদের অভ্যাসগত পরিবর্তন আনতে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার গুরুত্ব উপলব্ধি করেন স্বেচ্ছাসেবীরা।
কর্মসূচীতে মাসিক সম্পর্কে সচেতনতা, মাসিককালীন স্বাস্থ্যের পরিচর্যা, স্যানিটারী ন্যাপকিন ব্যাবহারের গুরুত্ব ও প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। ১৩টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয় স্বাস্থ্যকর স্যানিটারী ন্যাপকিন।
আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন ইসলাম, উপজেলা তথ্য অফিসের কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও ক্রীড়া সংগঠক আবু সাদাৎ মোহাম্মদ সায়েম, বিশিষ্ট চারুশিল্পী ও রংধনু আর্ট একাডেমীর প্রিন্সিপাল মোঃ ইব্রাহীম।
আয়োজনের শেষে স্বেচ্ছাসেবীদের সনদপত্র বিতরণ করা হয় এবং সামাজিক কাজে বিশেষ অবদান রাখায় দুইজন স্বেচ্ছাসেবীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতে স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজের অসংগতি ও বৈষম্য দূরীকরণে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকেরা।