ব্রেকিং নিউজ

আগামী ৫ বছরে যে সকল সুবিধা পেতে চলেছে রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ শিক্ষার্থীরা! (পর্ব ১)

॥ ইকবাল হোসেন ॥

পার্বত্য অঞ্চলের ১৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীদের সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ রাঙামাটি সরকারি কলেজ। এ বিদ্যাপীঠটি ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পার্বত্য জেলা রাঙামাটির দূর্গম উপজেলা সহ আশেপাশের জেলার শিক্ষাথীদের মাঝে উচ্চ শিক্ষার বীজ বপন করে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণকারী অগনিত শিক্ষার্থীরা বর্তমানে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং করছেন।

দীর্ঘ ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে পার্বত্য অঞ্চলকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা প্রাচীন এই বিদ্যাপীঠটি দীর্ঘদীন অবহেলিত ছিলো। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শ্রেণিকক্ষ সংকট, শিক্ষক সংকট, কর্মচারী সংকট, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাস সংকট, লাইব্রেরীতে বই সংকটসহ নানাবিধ সমস্যায় এই বিদ্যাপীঠটি জর্জরিত ছিলো কিন্তু বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর মঈন উদ্দীন ও সাবেক অধ্যক্ষ’র নিরলস পরিশ্রমের ফলে নানাবিধ প্রতিকূল প্ররিস্থিতির মাঝেও বর্তমানে রাঙামাটি সরকারি শিক্ষার মান অনেকাংশে বেড়েছে।

রাঙামাটি সরকারি কলেজে বর্তমানে ১০ কোটি ৪৩ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন চলমান রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নে বর্তমানে নির্মানাধীন অবস্থায় আছে ২ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫তলা বিশিষ্ট একাডেমীক ভবন কাম পরীক্ষার হল। ভবনটির নির্মান কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। এ বিষয়ে রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মঈন উদ্দীন বলেন, আমাদের এই ভবনটির নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। ভবনটির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আমাদের অনার্সের বেশ কয়েকটি ডিপার্টমেন্ট ওই ভবনে স্থানান্তর করা হবে। এতে করে বর্তমান ভবনের শ্রেণীকক্ষ সংকট’র সমস্যাটি অনেকটাই সমাধান হয়ে যাবে। এর পাশাপাশি ভবনটি নির্মান সম্পন্ন হলে নতুন যুক্ত হতে যাওয়া অনার্স ও ডিগ্রি’র প্রিলি সাবজেক্ট সমূহের ডিপার্টমেন্ট ও শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা সহজতর হবে।

এদিকে অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব সহ অন্যান্য ল্যাব’র জন্য ২ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বর্তমান প্রশাসনিক ভবনটির উর্ধমূখী সম্প্রসারণ’র কাজটি নির্মানাধীন অবস্থায় আছে। এবিষয়ে অধ্যক্ষ জানান, প্রশাসনিক ভবনের উর্ধমূখী সম্প্রসারণের কাজটি সম্পন্ন হলে বর্তমানে কম্পিউটার ল্যাবসহ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট’র যে ল্যাব সংকট রয়েছে তা লাঘব হবে। এতে করে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে ল্যাব ব্যবহার করে তাদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে পারবে।

অন্যদিকে রাঙামাটি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে বহিরাগতদের অবাধে বিচরণ ঠেকাতে ৭০ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা ব্যায়ে সীমনা প্রাচীর নির্মান’র দরপত্র কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এই সীমানা প্রাচীর নির্মানের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, রাঙামাটি সরকারি কলেজ বৃহৎ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় অবশ্যই সীমানা প্রাচীর থাকা আবশ্যক। তাছাড়া পূর্ববর্তী সময়ে কলেজ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন নাশকতামূলক ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও কলেজে ছাত্রীদের জন্য একটি মহিলা হোস্টেল নির্মানের কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। তাই সার্বিক নিরাপত্তার বিষটি মাথায় রেখে সীমানা প্রাচীরটি নির্মানের বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করেছি তাই অতি শীঘ্রই সু-উচ্চ এই সীমানা প্রাচীর’র নির্মান কাজ শুরু হবে।

কলেজের অফিস সূত্রে আরো জানা যায়, রাঙামাটি সরকারি কলেজে দূর্গম উপজেলা ও আশেপাশের জেলা থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে জন্য আগত ছাত্রীদের জন্য ৪ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মান করা হবে ১৩২ শয্যা বিশিষ্ট ছাত্রী নিবাস। যার দরপত্র কার্যক্রম ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। এই ছাত্রী নিবাস নির্মান সম্পর্কে অধ্যক্ষ প্রফেসর মঈন উদ্দীন বলেন, আমাদের এই কলেজ শুধুমাত্র রাঙামাটি জেলা নয় তিন পার্বত্য জেলার সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ। তাই রাঙামাটি জেলা শহর ও উপজেলা সমূহ ছাড়াও এখানে পার্শ্ববর্তী জেলার অনেক ছাত্রীরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য এই কলেজে ভর্তি হয়। তাছাড়া রাঙামাটি জেলা সারা বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জেলা এছাড়াও এখানকার প্রায় সব উপজেলাই দূর্গম তাই আসা-যাওয়া করে ক্লাস করা সম্ভবপর হয়না। শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্টে জেলা শহরে থেকে পড়ালেখা চালাচ্ছে। তাই তাদের এই সমস্যার বিষয়টি মাথায় রেখে এই ১৩২ শয্যা ছাত্রী নিবাস নির্মান করা হবে। এতে করে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ছাত্রীরা নিশ্চিন্তে তাদের পড়ালেখা চালাতে পারবে।

তিনি আরো জানান ছাত্রী নিবাসে অবস্থানকারী ছাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ২৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ছাত্রী নিবাসে সু-উচ্চ বাউন্ডারী দেয়াল নির্মান করা হবে। যার দরপত্র কার্যক্রম ইতিমধ্য সম্পন্ন হয়েছে। সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড মিলিয়ে রাঙামাটি সরকারি কলেজে সর্বমোট- ১০ কোটি ৪৩ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান আছে।

অধ্যক্ষ’র সাথে আলাপচারিতায় রাঙামাটি সরকারি কলেজ’র শিক্ষার মান, শিক্ষা কার্যক্রম, লাইব্রেরীর বর্তমান অবস্থা ও ভবিষৎ পরিকল্পনা সহ আরো বেশ কয়েকটি বিষয়ে জানা গেছে।এ সকল বিষয়ে জানতে চোখ রাখুন সিএইচটি টাইমসে।