জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে মঙ্গলবার থেকে রাঙামাটিতে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হবে টিসিবি’র পেয়াঁজ

॥ আলমগীর মানিক ॥

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের একান্ত প্রচেষ্ঠায় অবশেষে জেলা শহরে প্রাথমিক পর্যায়ে আট মেট্রিক টন পেয়াঁজ ন্যায্যমূল্যে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে টিসিবি’র লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাতজন ব্যবসায়ি। এই সাতজন ব্যবসায়ি তাদের পরিবহণ খরছ বেশি হওয়ার অজুহাতে এতোদিন তীব্র সংকটের মাঝেও রাঙামাটিতে পেয়াঁজ বিক্রি করেনি। এমতাবস্থায় রাঙামাটিবাসীর জন্য দুইশো টাকায় পেয়াঁজ কিনে খাওয়ার বিষয়টি অনেকটা মরার উপর খরার ঘাঁ’য়ের মতো অবস্থা হয়ে দাড়িয়েছে।

বিষয়টি নজরে আসায় নাগরিকদের দূর্ঘভ লাঘবে এবার জেলা প্রশাসন থেকে পরিবহণ খরছ প্রদান করে রাঙামাটিতে আট মেট্রিকটন পেঁয়াজ আনার উদ্যোগ নিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ।

মঙ্গলবার সকাল থেকে রাঙামাটির স্টেডিয়াম এলাকায় এই পেয়াঁজ বিক্রি শুরু করবে ব্যবসায়িরা। পর্যায়ক্রমে শহরের অন্যান্য এলাকাগুলোতেও পেয়াঁজ বিক্রি করা হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে। জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ সফল হলে রাঙামাটিতেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ টাকায় বিক্রি হবে। তবে একদিনে একজন ক্রেতা ১ কেজির বেশি পেঁয়াজ কিনতে পারবেন না।

পেঁয়াজের অস্থির বাজারে এখনও যেন সাধারণের প্রবেশাধিকার নেই। রাঙামাটিতে এখনও প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ ১৮০- থেকে ২০০ টাকা এবং তুরস্কের হাইব্রীড বড় পেঁয়াজ প্রতি কেজি বাজার ভেদে, ১২০, ১৪৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় খোলাবাজারে ৪৫ টাকা কেজি দরে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র পেঁয়াজ বিক্রয় শুরু হলেও রাঙামাটির মানুষ এই ন্যায্যমূল্যের পেঁয়াজের নাগাল পায়নি। জানা গেছে, রাঙামাটির টিসিবি ডিলারদের অনীহার কারণেই এখানকার মানুষ এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল।

অবশেষে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ নিজেই উদ্যোগেী হয়ে টিসিবি ডিলার ও ব্যবসায়ীদের সাথে দেন দরবারের মাধ্যমে টিসিবি ডিলারদের চট্টগ্রাম থেকে পেঁয়াজ আনতে রাজি করিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ডিলাররা সোমবার রাত নাগাদ চট্টগ্রাম থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহ করেছেন। মঙ্গলবার থেকে পেয়াঁজ বিক্রি শুরু করা হবে রাঙামাটি শহরে।

জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রাঙামাটির ডিলারদের চট্টগ্রাম থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহ করতে হবে। তারা প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৪১.৫০ টাকা দরে ক্রয় করতে পারবেন এবং বিক্রি করতে হবে ৪৫ টাকা কেজি দরে। একজন ডিলার প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১ টন পেঁয়াজ সংগ্রহ করতে পারবেন। উপরোক্ত বাধ্যবাধকতার কারণে ডিলাররা পেঁয়াজ আনতে অনীহা দেখায়। কারণ এই নিয়মে পেঁয়াজ এনে বিক্রি করলে তাদের যে মুনাফা হবে তা গাড়ি ভাড়াতেই ব্যয় হয়ে যেতে পারে।

এই খবর জানতে পেরে জেলাপ্রশাসক মামুনুর রশিদ ডিলার ও রাঙামাটির বাজার ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সম্প্রতি বিশেষ সভা করেন। সেখানে ব্যবসায়ীদের লোকসান হওয়ার আশঙ্কা জানতে পেরে ডিসি বলেছেন প্রয়োজনে পরিবহন ব্যয় জেলা প্রশাসন থেকে প্রদান করা হবে।

জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, রাঙামাটিতে সাতজন টিসিবি ডিলার থাকলেও তারা টিসির নিয়ম কানুনের দোহাই দিয়ে পেঁয়াজ আনা থেকে বিরত ছিল। আমি তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিবহন ব্যয় জেলা প্রশাসন থেকে প্রদান করার আশ্বাস দিলে তারা পেঁয়াজ আনতে রাজী হয়েছেন।

এদিকে রাঙামাটির জেলা প্রশাসকের অনুরোধে পরিবহন ব্যয় কমাতে চট্টগ্রাম টিসিবি কর্তৃপক্ষ সোমবার বিকেলে রাঙামাটির সাতজন লাইসেন্সধারী ব্যবসায়িকে সর্বমোট আট মেট্রিক টন পেয়াঁজ দিয়েছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেমএম মামুনুর রশিদ তার পক্ষ থেকে বিশেষ ছাড়ের বিষয়ে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, এরপরও যদি কোনো ডিলার পেঁয়াজ আনতে না চায় তবে তাদের লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।