আগামী ৫ বছরে যে সকল সুবিধা পেতে চলেছে রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ শিক্ষার্থীরা! (শেষ পর্ব)

॥ ইকবাল হোসেন ॥

পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বিদ্যাপীঠ রাঙামাটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে। নানা প্রতিবন্ধকতায় বেশ কয়েক বছর যাবত কলেজটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন না হওয়া এবং ধারাবাহিকভাবে ফলাফলে পিছিয়ে পড়ার কারণে পাহাড়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছিল। অবশেষে বর্তমান অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং প্রশাসনিক উদ্যোগে কলেজটিতে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ দিকে বেড়েছে লেখাপড়ার মান এবং পরিবেশও।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে কলেজটি তার পুরনো ঐতিহ্যে ফিরে যেতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। তবে কলেজটিতে এখনও নিয়মিত শ্রেণিপাঠ না হওয়ার বিষয়েও অভিযোগ করেছে কিছু শিক্ষার্থী। বিশেষ করে অনার্স কোর্সের বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রকৃত জ্ঞান অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে এই শিক্ষার্থীরা। এদের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট এবং নিজেদের জ্ঞানের উপর নির্ভর করেই পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে। এজন্য অবশ্য শ্রেণিকক্ষের সঙ্কটকে দায়ী করেছে শিক্ষকরা।

এদিকে রাঙামাটি সরকারি কলেজে ২০১৯ সাল’র উচ্চ মাধ্যমিক’র ফলাফলে শতকরা পাশের হার ৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। গতবছর উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে এই প্রতিষ্ঠানের পরিক্ষার্থীদের পাশের হার ছিলো শতকরা ৪৬%। এর মানে দাঁড়ায় পাঠদানে শিক্ষকরা গুরুত্বারোপ করায় অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মঈন উদ্দীন জানান- আমাদের কলেজ থেকে নতুন যেসকল পরিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিক অংশগ্রহণ করে তাদের প্রায় সকলেই পাশ করতেছে কিন্তু পূর্বের প্রায় ৬০০ পরিক্ষার্থী যারা ২/৩টি সাব্জেক্ট’র জন্য পরিক্ষা দিয়েছে আসলে পাশের শতকরা হার পূর্বের পরিক্ষার্থীদের জন্যই এতটা নেমে গিয়েছিলো। কিন্তু এ বছর আমি বেশ গুরুত্ব সহকারে বিষয়টা নিয়েছি তাই পাশের হার অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে আগামীতে আরো কিভাবে পাশের হার বৃদ্ধি করা যায় আমি শিক্ষকদের নিয়ে এ বিষয়ে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

এছাড়াও অধ্যক্ষ আরো জানান নির্মানাধীন শ্রেণিকক্ষ ও পরিক্ষার হল অতি শিগ্রই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত হবে। যার ফলে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য সংযুক্ত হতে যাচ্ছে অনার্স/মাস্টার্স’র নতুন সাবজেক্ট। এদিকে ডিগ্রির শিক্ষারর্থীদের জন্যও অতিশিগ্রই চালু হচ্ছে প্রিলির নতুন সাবজেক্ট। কলেজ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মোট ১৩ টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু আছে অতি শিগ্রই সমাজবিজ্ঞান ও পালি বিষয়ে অনার্স কোর্স’র কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে রাঙামাটি কলেজে পূর্বে বেশ কয়েকটি বিষয়ে ডিগ্রি পাশ করা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রিলি কোর্স চালু থাকলেও কয়েকবছর আগে বেশ কয়েকটি বিষয়ের প্রিলি কোর্স বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে এই প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি পাশ করা শিক্ষার্থীদের প্রিলি ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার জন্য চট্টগ্রাম গিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে হতো। তাই শিক্ষার্থদের এই সমাধানের লক্ষ্যে বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মঈন উদ্দীন’র তত্ত্বাবধানে শ্রিগ্রই ইসলামিক ইতিহাস, ব্যবস্থাপনা ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে প্রিলি কোর্স চালু হতে যাচ্ছে।

রাঙামাটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বর্তমানে ৮টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু আছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে শিগ্রই বেশ কয়েকটি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু হতে যাচ্ছে।

এই বিদ্যাপীঠে শিক্ষার্থীদের জন্য ২ ধরনের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে যা হলো- ১. প্রধানমন্ত্রী কর্র্তৃক দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান। যা শুধুমাত্র ডিগ্রীতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য। বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ১ম, ২য় ও ৩য় বর্ষ মোট তিনবার ৪,৯০০/- টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে থাকে।

২. ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি একাদশ/দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পরই বৃত্তির প্রদানের জন্য শিক্ষার্থী তালিকাভুক্ত করা হয়। এরপর তারা একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যায়নরত অবস্থায় দু-বছরে মোট দু-বার ৪,৬৫০/- টাকা করে বৃত্তি পেয়ে থাকে।

শিক্ষার্থদের যায়াতের জন্য লক্কর-ঝক্কর বাস ব্যবহার ও বাস সংকট’র বিষয়টি বেশ কয়েকবার উঠে আসলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ বলেছে তাদের পর্যাপ্ত পরিমান বাস রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিনিয়ত ৭-৮ টি বাস শিক্ষার্থীদের আনা নেয়ার কাজটি করছে। যদিও লক্কর-ঝক্কর বাস’র বিষয়টি সম্পর্কে অধ্যক্ষ বলেন যেহেতু বাস গুলো আমরা ভাড়া করে আনি তাই বাসের কন্ডিশনের বিষয়ে আমাদের তেমন কিছু করার নেই। আর শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে বাস পাওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান এরুপ কোন সম্ভাবনা নেই।

আর অধ্যক্ষ আরো জানান সড়ক পথে যাতায়াত করা যায় এমন উপজেলা থেকে থেকে আগত শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে রাউজান ও কাপ্তাই থেকে কলেজ বাস চালু করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে অতি শিগ্রই এটি বাস্তবায়িত হবে। আর এ নতুন করে উপজেলার শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হতে যাওয়া কলেজ বাস সার্ভিসের বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছে উপজেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ৩টি শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও কলেজে লাইব্রেরীটি ডিজিটাল করা হচ্ছে বর্তমানেও শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। লাইব্রেরিয়ান মো. মইন উদ্দীন তারিফ জানান, অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মঈন উদ্দীন’র প্রচেষ্ঠায় অতিশিগ্রই অটোমেশন প্রজেক্টর আওতায় ডিজিটাল লাইব্রেরীতে রুপান্তরিত হবে রাঙামাটি সরকারি কলেজ লাইব্রেরীটি। লাইব্রেরীয়ান’র কাছ থেকে আরো জানা যায় বর্তমানে লাইব্রেরীতে ১৩,৫০০ টির অধিক বই আছে। সদস্য আছে ৩,৫০০ জনের অধিক শিক্ষার্থী।

লাইব্রেরী থেকে শিক্ষার্থীদের পড়ার জন্য গ্রহণ ও প্রদানের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে লাইব্রেরীয়ান জানান একজন সদস্য একসাথে ১০ দিনের জন্য ২টি করে বই সংগ্রহ করতে পারে। আর নতুন বই সংযোজন’র বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান সরকারি ভাবে লাইব্রেরীর জন্য বাৎসরিক ১ লক্ষ টাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে আসে। ওই টাকা থেকেই প্রয়োজন অনুসারে বই সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

সার্বিক বিষয়ে রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মঈন উদ্দীন জানান, আমি দায়িত্ব নেয়ার পরেই বেশ কয়েকটি বিষয়ে নজর দিয়েছি যেমন কলেজ এরিয়ার জঙ্গল পরিষ্কার করে আমি ১১টি গাঁজার আড্ডার জায়গা খুজেঁ পেয়েছি। তারপর থেকেই আমি পুরো কলেজ এরিয়ার ঝোপ-জঙ্গল কিছুদিন পরপরই পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করেছি।

তিনি আরো বলেল আমি ডিগ্রির প্রিলি কোর্সের জন্য ৩টি সাব্জেক্ট অনার্স/মাস্টার্সে নতুন বিষয়ের সংযুক্তি। নতুন দুইটা স্পট থেকে বাস সার্ভিস চালু ও অটোমেশন প্রজেক্টের আওতায় কলেজ লাইব্রেরীটি ডিজিটাল করার প্রক্রিয়াটি অতিশিগ্রই বাস্তবায়ন করবো। এছাড়াও তিনি সকলের উদ্দেশ্য বলেন আমি এখন পর্যন্ত যেসব সভা সেমিনারে গিয়েছি সব জায়গায় একটি কথাই বলেছি আপনারা কলেজ’র সার্বিক উন্নয়নে আপাদের মতামত দিন আমি আমার পক্ষ থেকে তা বাস্তবায়ন করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।