অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নাথাকায় রাঙামাটিতে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়িকে জরিমানা

॥ নাঈম ইসলাম ॥

রাঙামাটি শহরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি। শহরের মুদির দোকান থেকে শুরু করে তেলের দোকান, আবাসিক ভবন, পান দোকান এমনকি ঝুপড়ির দোকানেও অবাধে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশসহ জনবহুল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার গুদামজাত করে তাঁরা নিজেদের ইচ্ছামাফিক স্থানে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সিলিন্ডার রেখে ব্যবসা করছেন। ফলে প্রায়ই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

আর এরই আলোকে সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাঙামাটি শহরের কল্যাণপুর এলাকায় এইসব দোকানে সঠিকভাবে এই খাতের ব্যবসার দেখভাল ও মনিটরিং করতে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমোদিত ও অনুমোদনহীন গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীয় বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ রুহুল কুদ্দুস। এসময় তিনি কল্যাণপুর এলাকার জসিম এন্টারপ্রাইজ নামে এক গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে ২০০৩ এর ১৮ ধারায় লাইসেন্স ভঙ্গ, অগ্নিনির্বাপনে কোন কিছু না থাকা ও প্রয়োজনীয় মজুতের বেশী গ্যাস সিলিন্ডার রাখার কারণে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ রুহুল কুদ্দুস।

এসময় তিনি জসিম এন্টারপ্রাইজ এর ম্যানেজার ওমর ফারুককে অগ্নিনির্বাপনের লাইসেন্সে যে ভাবে নিয়ম কানুন আছে তা পালনের অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে যদি লাইসেন্সের নিয়ম কানুন ভঙ্গ করেন তা হলে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে বলে সাবধান করে দেন তিনি।

উক্ত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা সময় রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসনের পেশকার মোঃ নজরুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। এসময় জেলা প্রশাসনের নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ রুহুল কুদ্দুস জানান, নিয়ম অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির মজুদ স্থানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতারও। এক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স, জ্বালানি অধিদফতরের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেয়ার বিধানও রয়েছে।

নির্ধারিত সময় পর পর সিলিন্ডার টেস্টেরও প্রয়োজন হয়। বেশি বিক্রি করতে হলে প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে বিম্ফোরক পরিদফতরের লাইসেন্স নিতে হবে। সনদ ছাড়া ব্যবসা সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু এসব নিয়ম-কানুন কেউ মানছে না। এতে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা আশংকা রয়েছে। তাই শহরে এইসব গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও দোকানে যাতে করে নিয়ম অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির মজুদ এবং অগ্নিনির্বাপনের লাইসেন্সে যেসব নিয়ম-কানুন আছে তা সঠিক ভাবে মেনে চলছে কিনা তা নিশ্চিত করতে এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান।