৪৫ টাকার পেঁয়াজে তুষ্ট হ্রদবাসী

॥ সৌরভ দে ॥

“পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে ১০/১০/২০১৯ তারিখ থেকে বাসায় পিঁয়াজ খাওয়া বন্ধ ছিল, আজ ৪৫ টাকার দরে পিঁয়াজ বিক্রয় খবর পেয়ে, বাবা কে খুশী করার জন্য আমার আদরের দূ-মেয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে দূ-কেজি কিনে বাসায় ২ মাস ১ দিন পর পিঁয়াজের তরকারি খাওয়া হয়।” এভাবেই ফেইসবুক স্ট্যাটাসে নিজের তুষ্টি প্রকাশ করছিলেন হ্রদবাসী দীপন ঘোষ। বাঙ্গালীর প্রত্যাহিক রান্নায় অতি প্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম বৃদ্ধির পর থেকে দীপন ঘোষের মত অনেকেই পেঁয়াজ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কেউ অভাবের তাড়নায় আবার কেউ দাম বৃদ্ধির নীরব প্রতিবাদ হিসেবে।

ভারতের পেঁয়াজ সরবরাহ বন্ধের কারন দেখিয়ে হু হু করে দাম বাড়াতে থাকে কিছু দুষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে দুষ্ট ব্যবসায়ীদের দুষ্টামী বুঝতে দেরী হয়নি জনগণের, টনক নড়ে সরকারেরও। বিকল্প হিসেবে অন্য দেশ থেকে প্লেনে পেঁয়াজ আমদানী শুরু করে সরকার কিন্তু তাতেও ঝাঁজ কমানো যায়নি পেঁয়াজের দামের। এমতাবস্থায় সরকারের নিজস্ব বিক্রয় সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশে(টিসিবি)র মাধ্যমে সারাদেশে ৪৫ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রয় শুরু হয়।

তবে রাঙ্গামাটিতে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রয়ে বেঁকে বসে ব্যবসায়ীরা। নিজের পকেট থেকে পরিবহণ খরচ দিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করে ক্ষতির সম্মুখীন হতে চাইছিলেন না তারা। এসময় রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নিজেই উদ্যোগী হয়ে বৈঠকে বসেন ব্যবসায়ীদের সাথে। “পেঁয়াজ রাঙামাটি আনতে যত খরচ হবে তা আমি দেবো” জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদের এমন আশ্বাসে অবশেষে রাজী হন ৭ ব্যবসায়ী। ১০ ডিসেম্বর থেকে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন পয়েন্টে শুরু হয় টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি।

পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে বিরক্ত হলেও দোকানের ১৬০ টাকার পেঁয়াজ ৪৫ টাকায় পেয়ে নিজদের তুষ্টি প্রকাশ করেন ক্রেতারা। আরেক হ্রদবাসী অশ্রু চৌধুরী নিজের ফেইসবুক স্ট্যাটাসে জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেন, “অ নে ক দিন পর পরিমাণমত পিঁয়াজ দিয়ে তরকারি রান্না করলাম৷ ধন্যবাদ মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়কে, ৪৫ টাকা দরে পিঁয়াজ বিক্রির মত মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য৷”

শুধু অনলাইনে নয় অফলাইনেও হ্রদবাসীদের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। জাহাঙ্গীর নামে এক দিন মজুর জানান, দাম বাড়নের পর থেইকা তরকারীত আর পেঁয়াজের স্বাদ পাই নাই। অত দাম দিয়া পেঁয়াজ খাওনের সামর্থ্য আমাগো নাই। যতদিন দাম বাড়তি থাকবো ততদিন এইভাবে বেচলে আমগো মত গরীবদের ভালা অয়।