জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিলঃ আনোয়ার আল হক

॥ ইকবাল হোসেন ॥

বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের সন্ধিক্ষণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন বুঝতে পারে যে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন আটকাতে পারবেনা। তখনই বাঙ্গালী জাতীকে মেধাশূন্য করতে অগণিত বুদ্ধিজীবিদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা কার্যালয় কর্তৃত শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস’১৯ উপলক্ষ্যে আয়োজিত শিশু-কিশোরদের উপস্থিত রচনা লিখন, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক রাঙামাটি পত্রিকার সম্পাদক আনোয়ার আল হক একথা বলেন।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ) সকালে রাঙামাটি শিশু একাডেমি কার্যালয় মিলনায়তনে শিশু-কিশোরদের উপস্থিত রচনা লিখন, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান’র আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক রাঙামাটি পত্রিকার সম্পাদক আনোয়ার আল হক। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি রাঙামাটি জেলা কার্যালয়ের জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মিসেস অর্চনা চাকমা, রাঙামাটি’র জেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পরিনয় চাকমা, শিশু একাডেমি’র চিত্রাংকন প্রশিক্ষণ চিত্রশিল্পী মো. ইব্রাহীম, রাঙামাটি শিশু নিকেতন’র শিক্ষক হাফেজ মোসলেম উদ্দীন প্রমূখ।
মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন বায়তুল মামুর জামে মসজিদ’র ইমাম মাওলানা মো. মিরাজ উদ্দীন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ইয়ুথ’র পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক রাঙামাটি পত্রিকার সম্পাদক আনোয়ার আল হক উপস্থিত অতিথি, শিশু-কিশোর ও অভিবাবকদের সামনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস’র তাৎপর্য এবং এর ইতিহাস সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন সমগ্র বিশ্বে ৯ মাসের যুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনের নজির একমাত্র বাংলাদেশরই আছে এছাড়া কোন দেশ এত কম সময় ধরে স্বাধীনতা যুদ্ধ চালিয়ে বিজয় অর্জন করতে পারেনি। এদিকে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই যখন বাঙালী মুক্তিযোদ্ধারা একে একে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা শত্রুমুক্ত করতে থাকে তখনই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনি বুঝতে পারে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে আটকাতে পারবে না। তাই ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পিত ভাবে বাঙালী জাতিকে মেধার দিক থেকে পঙ্গু করার জন্য রাতের আধারে দেশের বিভিন্ন স্থান বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় অবস্থানরত সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক, শিক্ষক, উকিলসহ নানা পেশার বুদ্ধিজীবিদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চোখে কালো কাপড় বেঁধে বিভিন্ন বদ্ধভূমিতে নিয়ে গিয়ে নির্বিচারে হত্যা করে। এর ২দিন পরই ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জন করে পৃথিবীর মানচিত্রে মাথা উঁচু করে আবির্ভাব ঘটে বাংলাদেশ নামক আমাদের এই দেশ। শত প্রতিকূলতার মাঝেও স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পূর্ণ হওয়ার সন্ধিক্ষণে আজ বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। কিন্তু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করার মাধ্যমে আমাদের যে ক্ষতি করেছে তা কখনই পূরণীয় নয়। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মেখ হাসিনার নেতৃত্বে অতিশিগ্রই আমরা এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবো বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আলোচনা সভার পর ‘শহীদ বুদ্ধিজবী দিবসের তাৎপর্য’ বিষয়ে পূর্বে অনুষ্ঠিত উপস্থিত রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।

এরপর শহীদ বুদ্ধিজীবিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা সহ বিশ্ব শান্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।