শোকাবহ পরিবেশে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাঙামাটিতে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস পালন

॥ শহিদুল ইসলাম হৃদয়-নির্জন ॥

যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও শোকাবহ পরিবেশের মধ্যদিয়ে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস পালিত হয়েছে। দিসবটি পালনে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শনিবার সকাল সাড়ে দশটা অনুষ্ঠিত হওয়া এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর, সিভিল সার্জন ডাঃ শহিদ তালুকদার, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাজ্বী কামাল উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রবার্ট ডোনাল্ট পিন্টু, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীন আ:লীগ নেতা রুহুল আমিন, সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এসময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ছাত্র ছাত্রীবৃন্দ সরকারি বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী উপলব্দি করেছিল, দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীরা বেঁচে থাকলে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশ আবার মাথা উঁঁচু করে দাঁড়াবে। তাই পরিকল্পিতভাবে জাতিকে মেধাহীন ও পঙ্গু করতে দেশের বরেন্য সব ব্যক্তিদের রাতের অন্ধকারে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করা হয়।

রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির সদস্যদের বুদ্ধিজীবীদের উন্মত্ত হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিলো। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রামের শেষলগ্নে জাতি যখন চূড়ান্ত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে ঠিক তখনই ১৪ ডিসেম্বরের সেই কাল রাতে বাঙালি মেধার নৃশংস এই নিধনযজ্ঞ চলে, যা হতবিহ্বল করে তুলেছিল পুরো বিশ্বকে। ১৪ই ডিসেম্বরের হত্যাকান্ড ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম বর্বর হত্যাকান্ড।

এ ঘটনা বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী মানুষকে স্তম্ভিত করেছিল। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের পর ঢাকার মিরপুর, রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবীদের মৃতদেহ ফেলে রেখে যায়। আমাদের নতুন প্রজন্মকে এই নিকৃষ্টতম হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে এবং হায়েনাদের তাদের দোসরকে সম্পর্কে আমাদেরকেই জানাতে হবে এবং দেশের আগামীদিনের বুদ্ধিজীবি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

এদিকে আলোচনা সভায় বক্তব্যকালে রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর, সঞ্চালক মুজিবুল হক বুলবুলসহ আলোচকরা দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজ আমরা স্বাধীন একটি দেশের নাগরিক হিসেবে যে পরিচয় বহণ করছি সেই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি স্বাধীন করতে গিয়ে যেসকল সূর্য সন্তানরা নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের স্মরনে রাঙামাটির সরকারী-বেসরকারী অনেকগুলো অফিসের প্রধানতো আসেইনি, তাদের কোনো একজন প্রতিনিধি পর্যন্ত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরনে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থিত হয়নি। এটা অত্যন্ত দূঃখজনক ও বেদনাদায়ক এবং যেসব কর্মকর্তাগণ আসেননি তাদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও করেছেন বক্তারা।