পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যানকে আন্তর্জাতিক মর্যাদার ইসিমোড পর্বত পুরষ্কার প্রদান

॥ আলমগীর মানিক ॥

তিন পার্বত্য জেলার উন্নয়নে বিশেষভাবে নিয়োজিত সরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড অর্জিত ইসিমোড পর্বত উন্নয়ন পুরস্কার গ্রহণ করেছেন উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা এনডিসি। শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) নেপালের কাঠমান্ডুতে নেপাল ইসিমোড কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে এ পুরস্কারটি চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় ইসিমোড এর মহাপরিচালক (ভাঃ) ড. ইকলাবায়া শর্মা পুরস্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ মানপত্রসহ ৫০০০.০০ (পাঁচ হাজার) মার্কিন ডলার চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এমএস মাশফি বিনতে শামস। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মশিউর খোন্দকার, কবির উদ্দিন।

হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের অন্তর্গত পার্বত্য চট্টগ্রামে বিগত চার দশকের বেশি সময় ধরে এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার উন্নয়নে অসাধারন ভূমিকা রাখায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কে এবার ইসিমোড পর্বত পুরষ্কার ২০১৯ এর জন্য নির্বাচন করে। গত নভেম্বরে ইসিমোড আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের কথাটি উন্নয়ন বোর্ডকে জানায়।

উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, পার্বত্য তিন জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা সহায়তা সম্প্রাসারণ, কৃষি উন্নয়নে সহায়তা প্রদান, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিকরণ, সামাজিক সুবিধা বাড়ানো, সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির উন্নতী সাধন, টেকসই সামাজিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে মা ও শিশু কল্যাণ কর্মসূচি গ্রহণ, দাফতরিক সামর্থ্য বৃদ্ধি, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনয়ন ও উন্নতিকরণের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে নানামুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে উন্নয়ন বোর্ড। পাহাড়ে উল্লেখিত কর্মকান্ড বাস্তবায়নে উন্নয়ন বোর্ডের কাজের গতি এবং মানসহ বেশ কিছু বিষয় পরিদর্শনের পর বোর্ডকে প্রথমবারের মতো এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

তৎকালীন ব্রিটিশ ও পাকিস্তান শাসনামলে পার্বত্য অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে এ অঞ্চল অবহেলিত থেকে যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র বোর্ড গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন।

সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ১৯৭৩ সালের ৯ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কারমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত রাঙামাটি সার্কিট হাউজের এক সুধী সমাবেশে উন্নয়ন বোর্ড গঠনের কথা জানান।

তারই ধারবাহিকতায় ১৯৭৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ৭৭নং অধ্যাদেশ বলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের কার্যক্রমকে অধিকতর টেকসই, গতিশীল ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন-২০১৪ প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পাহাড়ের উন্নয়নে নতুন গতি এসেছে এবং উন্নয়ন বোর্ডের কাজেও আধুনিকতা ও স্বচ্ছতার ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে।