কাপ্তাই হ্রদের নাব্যতা ও ল্যান্ডিং সুবিধার উন্নয়নে রাঙামাটিতে কর্মশালা

॥ আলমগীর মানিক ॥

হ্রদ আর পর্বতের জেলা রাঙামাটির পাহাড়গুলোতে উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে কাপ্তাই হ্রদের নৌ-পথে উচ্চ গতি সম্পন্ন বোট চলাচলে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাপ্তাই হ্রদের নাব্যতা উন্নয়ন ও ল্যান্ডিং সুবিধাদি উন্নয়নে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এই লক্ষ্যে মঙ্গলবার রাঙামাটিতে এক কর্মশালার আয়োজন করেছে সংস্থাটি। উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ এর সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর এম মাহবুব উল ইসলাম (এন) বিএসপি এনডিসি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম শফি কামাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস ঘোষ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান মহসিন রোমানসহ বিভিন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান রাখা বক্তব্য রাখেন।

মঙ্গলবায় সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান। কর্মশালায় রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় কাপ্তাই লেকের নাব্যতা বৃদ্ধিকল্পে বিভিন্ন অংশ বিশেষজ্ঞ দ্বারা চিহ্নিত করে ড্রেজিং করার জন্য বিআইডব্লিউটিএকে বলা হয়েছিলো। সেই আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার নদীগুলো খনন করার লক্ষ্যে নির্দেশনা প্রদান করেন নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী। যার ধারাবাহিকতায় কাপ্তাই লেকের সাথে সংযুক্ত নদী খনন ও ল্যান্ডিং ষ্টেশন নির্মাণের ভিত্তিতে একটি সমীক্ষা প্রস্তাব তৈরি করা হয়।

উক্ত সমীক্ষা প্রস্তাবে কাসালং ১৫৯কি.মি.,মাইনি ১২৯ কি.মি., চেঙ্গী ১৩৯ কি.মি., রাখাইন ১৩৫কি.মি., শুভলং-মরমছড়া(ছলক নদী) ৪৫কিমি., হাড়িয়াছড়া ৪০ কি.মি., ডলু-টংকাবতি ৫৫কি.মি. ও কর্ণফুলী ১৩১কি.মি. অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সমীক্ষা সম্পাদনের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রাণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ইনিস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (ওডগ) কে নিযুক্ত করা হয়।

এই সমীক্ষায় শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতা বৃদ্ধি, নৌ পথ এর উন্নয়ন, বর্তমান ঘাট গুলোর উন্নয়ন, নতুন ঘাটের প্রস্তাবনা, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞ দলের সমীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অদ্যাবধি ৬টি নদীতে বাথে মেট্রি সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ১টি নদীতে সার্ভে চলমান রয়েছে ও অবশিষ্ট ১টি নদীতে সার্ভে অতি শীঘ্রই শুরু করা হবে। সমীক্ষার গাণিতিক মডেল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য করার জন্য পানির উচ্চতা নির্ণয় এবং নদীর প্রবাহ পরিমাপ নিরূপন সম্পন্ন হয়েছে সোশ্যাল সার্ভে, ট্রাফিক সার্ভে এবং পরিবেশগত জরিপ চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে কর্মশালায়।