পাহাড়ে বিদ্যুতের উন্নয়নে সরকার ১০বছরে প্রায় ৮শ’কোটি টাকা দিয়েছে: দীপংকর তালুকদার

॥ আলমগীর মানিক ॥

গত দশ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামে শুধুমাত্র বিদ্যুতের উন্নয়নে সরকার প্রায় ৮শ’কোটি টাকা দিয়েছে উল্লেখ করে দীপংকর তালুকদার এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী চান পাহাড়ের মানুষ যেন দেশের অন্য সকল জেলার মানুষের সাথে সমান তালে এগিয়ে যেতে পারে, আর সবার মতো উন্নয়নের ছোঁয়ায় উন্নত জীবনের আলোয় আলোকিত হতে পারে।

এখানেই শেখ হাসিনার সরকারের সাথে অন্যদের পার্থক্য। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) জনগণের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেন তাদের চাহিদা কি। আর চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে তিনি দেরী বা কার্পণ্য করেন না। অথচ পাহাড়ের একটি গোষ্ঠী এই সরল কথাটা না বুঝে অলীক স্বপ্নে বিভোর থাকে আর উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে নানা ধরণের জটিলতা তৈরি করে।

এমপি বলেন, ২০১০ সালে তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুতায়নের জন্য আওয়ামীলীগ সরকার ১শ’ ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। ২০১৫ সালে ওই প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এবার বরাদ্দ প্রদান করেছে ৫শ’ ৬৫ কোটি টাকা। এই টাকা দিয়ে আগামী বছর ২০২১ সালের মধ্যে পাহাড়ের সকল ঘরকে বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ যে কোনো মূল্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে। পাহাড়ি এলাকা বা দুর্গমতার কারণে যেখানে সরবরাহ লাইন নেওয়া যাবে না, তাদের সৌর বিদ্যুতের মাধ্যেমে এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

মঙ্গলবার পার্বত্য তিন জেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের জন্য গ্রীড লাইন নির্মার্ণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে রাঙামাটি জেলা পর্যায়ে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় এমপি দীপংকর তালুকদার এই তথ্য তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার সকল উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণসহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ এর সভাপতিত্বে এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মতিউর রহমান, বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার, বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল কান্তি বড়ুয়া, সহকারি প্রকৌশলী আশফাকুর রহমান মুজিব, রাঙামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান মহসিন রোমান উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা পুরো জেলাকে কিভাবে অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎতায়নের আওতায় আনা যায় সে ব্যাপার বিশদ আলোচনা হয়। এ সময় চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা তাদের স্ব স্ব এলাকার অবস্থান তুলে ধরেন এবং আগামী সাতদিনের মধ্যে নিজ এলাকার চিত্র সম্বলিত প্রতিবেদন জমা দিবেন বলে কথা দেন। এ সময় বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু হয়রানী ও সহজ শর্তে সংযোগ প্রদানের বিষয়েও অভিযোগ করেন চেয়ারম্যানেরা।

এসময় বিতরণ বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান, সংযোগের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে সরকারি ফি ২৯০০ টাকা প্রদান করে যে কেউ সংযোগ নিতে পারেন। তবে লাইনের দুরত্বের কারণে এই পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। তা ছাড়া যাদের জমির কাগজ নেই তারা হলফনামা জমা দিয়ে সংযোগ গ্রহণ করতে পারবেন।