ব্রেকিং নিউজ

শুভ বড়দিনঃ যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন আজ

সেন্ট যোসেফ চার্চ রাঙামাটি

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

আজ ২৫ ডিসেম্বর, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন। এই দিনে বর্তমান ফিলিস্তিনের বেথলেহেমের এক গোশালায় কুমারী মাতা মেরির গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন প্রভু যিশু খ্রিস্ট। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচয়ে বড় ধর্মীয় আয়োজন বড়দিন হলো পুনর্জন্ম, নতুন শুরু, ক্ষমা ও শান্তি এবং ঈশ্বর ও মানুষের সম্পর্কের নবজীবন দানের উৎসব। তাই প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর সারাবিশ্বের খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা মহাসমারোহে ধর্মীয় অনুভূতি ও আনন্দের মধ্য দিয়ে পালন করেন যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন। রঙিন বাতিতে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো, বিশেষ প্রার্থনা, শিশুদের মাঝে উপহার বিতরণ এবং স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ এ উৎসবের মূল অনুষঙ্গ।

খ্রিস্টীয় ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে জানা যায়, যিশুর জন্মকালে আকাশ থেকে ভেসে এসেছিল দৈববাণী, তোমাদের মঙ্গলের জন্য পৃথিবীতে এ রাতে ঈশ্বরের পুত্র এসেছেন। যিশু অনাহারকৃষ্ট দুঃখী, নির্যাতিত ও গরিব মানুষের জীবনে শান্তি স্থাপন ও বিশ্বময় শান্তিপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। জীবনাচরণ, ব্যবহার ও ঐশ্বর্য্যবান ব্যক্তিত্বের মধ্য দিয়ে মহামতি যিশু সমগ্র বিশ্বের মানুষের কাছে অমর হয়ে আছেন। যিশুর জন্মের অনেক বছর পর থেকে খ্রিস্টানরা এ দিনটিকে আনন্দ ও মুক্তির দিন হিসেবে পালন করতে শুরু করেন। ৪৪০ সালে পোপ এ দিবসকে স্বীকৃতি দেন। তবে উৎসবটি জনপ্রিয়তা পায় মধ্যযুগে। সে সময় এর নাম হয় ‘ক্রিসমাস ডে’।

বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

সেন্ট যোসেফ চার্চের মূল ফটকে ফাদার যোসেফের মূর্তি

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। তিনি একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বড়দিন খ্রিস্টান ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের আর্চবিশপ, বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতা ও পেশাজীবীরা অংশ নেবেন।

দিনটি উপলক্ষে অনেক খ্রিস্টান পরিবারে কেক তৈরি হবে, থাকবে মিষ্টি ও বিশেষ খাবারের আয়োজন। দেশের অনেক অঞ্চলে কীর্তনের পাশাপাশি ধর্মীয় গানের আসর বসবে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গির্জায় বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। গির্জা প্রাঙ্গণ আলোক সজ্জায় সজ্জিত এবং জরির কারুকাজ সাজে গির্জার ভেতর হয়ে উঠেছে রঙিন। গির্জার ভেতরে ক্রিসমাস ট্রিকে বাহারি সাজে সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া হোটেল সোনারগাঁও, হোটেল রেডিসন ও ওয়েস্টিনসহ রাজধানীর অভিজাত হোটেলগুলোতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন, বেসরকারি টিভি ও রেডিও দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। জাতীয় সংবাদপত্রগুলো এ উপলক্ষে প্রতিবেদন ও নিবন্ধ প্রকাশ করবে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি।