“আদিবাসী”নাম প্রত্যাহারে পাহাড়-সমতলের এনজিওগুলোকে ১ মাস সময় দিলো সরকার

॥ আলমগীর মানিক ॥

পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এনজিও কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠান সমূহ বিশেষ করে যেসকল এনজিও তাদের নামের সাথে ‘আদিবাসী’ বা ‘ইন্ডিজিনাস’ শব্দ আছে তাদেরকে আগামী এক মাসের মধ্যে নাম পরিবর্তনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট্য দপ্তরে আবেদন করার নির্দেশনা প্রদান করেছে নিয়ন্ত্রণকারি প্রতিষ্ঠান এনজিও ব্যুরো। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এনজিওগুলোকে প্রেরিত এক পত্রের মাধ্যমে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

গত ১৮ ডিসেম্বর এনজিও ব্যুরোর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারি পরিচালক শিলু রায় স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৩ক অনুযায়ী এ দেশে আদিবাসী নামক কোন জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা হয়নি।

তাছাড়া বৈশ্বিক আদিবাসী রাজনীতির অংশ হিসেবে এক শ্রেনীর দেশী/বিদেশী স্বার্থান্বেষী মহল আইএলও কনভেনশন-১৬৯ এ প্রদেয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য বাংলাদেশের সুযোগ সুবিধা ও তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার রয়েছে; যা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য হুমকি স্বরূপ। এছাড়া “আদিবাসী” শব্দটি বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও হুমকি স্বরূপ।

এ সকল কারণে সকল “আদিবাসী/ইনডিজিনাস” নামধারী এনজিওসমূহের নাম পরিবর্তন করা আবশ্যক। এমতাবস্থায় আগামী এক মাসের মধ্যে নাম পরিবর্তনের আবেদন করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।”

এদিকে বহুল বিতর্কিত আদিবাসী বিষয়টি পরিস্কার করতে বিগত ২০০৮ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক এক পরিপত্রের মাধ্যমে (নং-পাচবিম(সম-১)-৩৭/৯৭-১১৭)সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছিলো। সিনিয়র সহকারী সচিব কাজী আবুল কালাম স্বাক্ষরিত সেই পত্রে আদিবাসী বিষয়টি নিয়ে উল্লেখ করা হয়, সূত্র: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-ইউ এন-জিএ-৪২২২/০৮, তারিখঃ ১৯/৮/২০০৮ খ্রিঃ এই সূত্রের আলোকে জারিকৃত পত্রের মাধ্যমে জানানো হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের পার্বত্য এলাকা রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ির সাথে সম্পৃক্ত।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠি দু’টি প্রধান ভাগে বিভক্ত। যথা- (ক) উপজাতি ও (খ) অ-উপজাতি(বাংগালী)। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটির সহিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চুক্তির ক খন্ডের ১, খ খন্ডের ৮, ১১, ১৪(খ), ২৪(ক), ৩৪(গ), গ খন্ডের ৩, ৭, ৮(ক), ৯ (ঙ), ১৩, ও ঘ খন্ডের ১, ২, ৩, ৭, ১০, ১১, ১৯ ধারাসমুহে, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮ এর ২(গ), ৫ (খ), ৫(২), ৫(৩) . ৫(৫), ৭(১), ৭(২), ৮(১), ৮(৩), ২৮, ২৯(১) ধারাসমূহে,

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন ১৯৮৯ এর ২(খ), ৪(১) (খ), ৪(৩), ৪(৪), ৫(১), ৫(২), ৬(১), ৬(৩), ১৪, ১৯, ২৫(২), ৩১(২), ৬২, ৬৬ ধারাসমূহে সকল পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসরত অবাঙ্গালীদের উপজাতী হিসেবে উল্লেখ করা আছে।

এমতাবস্থায়, সুত্রে উল্লেখিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পত্রে বাংলাদেশের যে অবস্থান তথা- The Country has some tribal populations and there are no indigenous peoples” মর্মে উল্লেখ করা আছে, তার সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় একমত পোষণ করছে। বিষয়টি নির্দেশক্রমে অবহিত করা হলো।


এরপরবর্তী আদিবাসী’ বিষয়টি নিয়ে বিগত ২০১৫ সালেও একটি পরিপত্র জারি করেছিলো সরকার। ২০১৫ সালের ১৬ই আগষ্ট জারিকৃত এই পত্রের স্মারক নাম্বার: ২৫.০১৫.০০১.০২.০০.০১৩.২০০৫.১৩১৩।

এই পত্রের মাধ্যমে নির্দেশনা জারি করে বলা হয়েছিলো সংবিধান সম্মত শব্দ চয়ন তথাকথিত আদিবাসী দাবীর ক্ষেত্রে বলা হয়, বাংলাদেশে আদিবাসী নাম অসাংবিধানিক দাবী বাস্তবায়নের অপকৌশল রোধকল্পে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো জাতীয় ঐতিহাসিক স্থান ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

সেসময়ে সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সচিব মোঃ মনিরুজ্জামান কর্তৃক স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

উক্ত পত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছিলো তথাকথিত আদিবাসী শব্দের ব্যবহার করে কোনো দিবস পালনে সরকারী গুরুত্বপূর্ন কোনো স্থাপনা ও স্থান ব্যবহার করতে দেওয়া যাবেনা।