ব্রেকিং নিউজ

কাপ্তাই হ্রদে অবৈধ মৎস্য ঘের ধ্বংসে বিএফডিসির অভিযানে ৮হাজার মিটার জাল জব্দ

॥ আলমগীর মানিক ॥

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাপ্তাই হ্রদে অভিযান পরিচালনা করে ১০ মূল্যের অবৈধ জাল জব্দ করেছে রাঙামাটিস্থ বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার জেলার লংগদু উপজেলায় পরিচালিত এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএফডিসি রাঙামাটি শাখার ব্যবস্থাপক নৌ বাহিনীর কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।

জানাগেছে, রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে জাল ফেলে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ আটকে রাখছে একটি অসাধু চক্র। জেলা প্রশাসন ও কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি একাধিক বার অভিযান পরিচালনা করেও অবৈধ মৎস্য শিকারীদের ও প্রভাবশালী অসাধু ব্যবসায়ি সিন্ডিকেটের তৎপরতা বন্ধ করতে পারছেনা।

বিশাল এলাকাজুড়ে কাপ্তাই হ্রদের সীমানা হলেও বিএফডিসি কর্তৃপক্ষের স্বল্প লোকবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে পর্যাপ্ত নজরদারির বাইরেই থাকছে কাপ্তাই হ্রদের অধিকাংশই এলাকা। এসব এলাকাগুলোতে বিক্রয় নিষিদ্ধ জাল দিয়ে ঘেরাও করে মাছ আটকে আহরণ করছে চক্রটি। এই চক্রটিকে ধরতে কাপ্তাই হ্রদ এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের সহযোগিতা কামনা করে নিয়মিতভাবে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে আসছে বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ।

যার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত গোপনে সংবাদের ভিত্তিতে রাঙামাটি বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ নৌ-পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১০টি অবৈধ জাঁক ধ্বংস করেছে। এতে অন্তত ৮ হাজার মিটাল বিক্রয় নিষিদ্ধ বিশেষ ধরনের জাল জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএফডিসি রাঙামাটি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক নৌবাহিনীর কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।

এসময় বিএফডিসি টিমের অভিযানের খবর পেয়ে অবৈধ মৎস্য শিকারী ও জাঁকের মালিকরা সটকে পরলে কাউকে আটক করতে পারেনি। বিএফডিসির ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলাম বলেছেন, লংগদু উপজেলার মারিশ্যা চর, কালাপাকুইজ্জা, নতুন বাজার, চাইল্যাতলী, শিবের বাজার, গাথাছড়া ইসলামপুর এলাকায় সারাদিনই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব এলাকায় অবৈধভাবে কাপ্তাই হ্রদ দখল করে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে বিশেষভাবে ঘেরাও দিয়ে ডিমওয়ালা বড় মাছগুলোকে আটকিয়ে রাখছিলো কিছু অসাধু চক্রের লোকজন। আমরা স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করি।

এসময় আমাদের উপস্থিতি পেয়ে সংশ্লিষ্ট অপরাধীরা পালিয়ে গেলেও আমরা অনেকগুলো জাল নদী থেকে তুলতে নাপেয়ে ধারালো দা দিয়ে কেটে দিয়ে আটকানো মাছগুলো হ্রদের মূলস্রোতধারায় অবমুক্ত করার পাশাপাশি অন্তত ৮ হাজার মিটার জাল জব্দ করে নিয়ে আসা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ লাখ টাকা।

বিএফডিসির ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবৈধ মৎস্য আহরনকারি ও বিপননকারিদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরো জোরদার করা হবে।এ ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িতরা দেশের শত্রু হিসিবে চিহ্নিত হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের সম্পদ লুন্ঠনের সাথে জড়িতদের ধরতে বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ তৎপরতা চলমান রেখেছে। এদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে বিএফডিসিসহ রাঙামাটি জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।