ব্রেকিং নিউজ

রাঙামাটিতে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারনা করা কে এই সর্বোচ্চ ব্যক্তি?

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে দেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন এক অজ্ঞাত সর্বোচ্চ ব্যক্তি। বিষয়টি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। প্রতিশ্রুতি না রাখায় দুইটি পরিবার এখন দিশেহারা। একটি মেয়ের জীবন সংকটাপন্ন। বৃহস্পতিবার রাতে এই ধরনের মর্মস্পর্শী ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে স্ট্যাটাস দিয়েছেন রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কেরল চাকমা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টা ১২ মিনিটে তার ব্যক্তি ফেসবুক আইডি Karol Chakma এর টাইমলাইনে প্রদত্ত ষ্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “একজন সদ্য সহকারি শিক্ষক চাকরি প্রার্থীনিকে বলা হলো আগে তোমার প্রেমিককে বিয়ে করো,তারপর তোমাকে চাকরি দেওয়া হবে!!! যথা রীতি চাকরি প্রার্থীনি তার প্রেমিককে বিয়ে করলো!! গত ছয় তারিখ!! আমি ও সেই সাদা মাথা বিয়েতে উপস্হিত ছিলাম!! কারন আমি বরের নিকট আতœীয় বলে…!!

বরের বাবা তার ভাবি পুত্র বধূর চাকরি পাওয়ার জন্য, চাকরি দাতা সর্ব্বোচ্চ ব্যক্তির কাছে যায়। বরের বাবার বিস্তারিত কথা শুনে,চাকরি দাতা বললো!! তোমার ছেলে টেনে টুনে এস এস সি পাশ!!! তোমার ভাবি পুত্র বধু মানে চাকরি প্রার্থীনি এম এ পাশ!!! তাকে যদি চাকরি দিই পরে সে তোমার ছেলেকে বিয়ে করবেনা!!! কাজেই আগে বিয়ে দাও!! তারপর চাকরি দেবো!!! যেমন নির্দেশ তেমনি কাজ..!!

গত ৬ তারিখ রাঙামাটির রাজবাড়ীস্হ টুগুন রেস্টুরেন্টে সেই চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারনার বিয়ে সাদামাথা ভাবে অনুষ্ঠিত হয়!!! চাকরি পাওয়ার প্রত্যাশায় বিয়েতে বসা কনের হাসি খুশি মুখ দেখে খুব ভাল লেগেছিল।।।মনে মনে বলেছি, মেয়েটি শিক্ষিত চাকরি পেলে সুন্দর সংসার করবে…..! যখন আমাকে বড়জন হিসেবে পায়ে ধরে বর কনে সালাম করছিল..!! মন থেকে আর্শীবাদ করেছিলাম যেন বর কনের মনোবঞ্চনা পূর্ন হয়!!! আমি বা যারা সেই বিয়েতে উপস্হিত ছিলাম, তারা কি জানতাম!!! সেই কনে বরের জন্য একটা প্রতারনা প্রতিশ্রুতি অপেক্ষা করতেছে…!!! না আমরা ও যারা বিয়েতে উপস্হিত ছিলাম কনের চাকরি পাওয়ার প্রতিশ্রুতির বিয়ে খেয়ে খুশিতে,, চাকরি দাদার প্রতিশ্রুতির পঞ্চমুখ প্রশাংসায়…!!!

গত ৭ তারিখ মুখিক পরীক্ষা, আজ ৯ তারিখ পরীক্ষার চুড়ান্ত রেজাল্ট প্রকাশের পর জানা গেলো… সদ্য চাকরির প্রতিশ্রুতিতে কনে সাজা শিক্ষিত চাকরি প্রার্থীনির চাকরি হয়নি……!!!!!! এইবার ভাবুন সেই কনে বা শিক্ষিত এম এ পাশ করা চাকরি প্রার্থীনি মেয়েটির মনের অবস্হা কি হতে পারে..!!!! বা আমরা যারা সর্ব্বোচ্চ চাকরি দাতার মিথ্যা প্রতিশ্রুতির বিয়েতে উপস্হিত ছিলাম তাদের মনোভাবনার ধারনা…!!! আজ সকালে শুনলাম,,, চাকরি প্রার্থীনি সদ্য কনে, নাকি বিষ খেয়ে আতœহত্যার চেষ্টা করতেছে…!! খবর এলো বরের বাবার কাছে,, তখন আমরা বেশ কয়েকজন বরের বাবা সহ এক নিকট জনের বাসায় সদ্য চাকরি প্রতারনা বিয়ে নিয়ে আলোচনা রত ছিলাম!!! বরের বাবা দ্রুত তার ছেলের বউর কাছে গেল!!! হাতে পায়ে ধরে পারিপাশ্বিক সবাই মিলে কনে চাকরি প্রার্থীকে আতœহত্যা থেকে নিভৃত করানো হলো….!!!

এখন সুধী সমাজ বলেন,,, এটা কি ধরনের প্রতারনা করা হলো,, সর্ব্বোচ্চ পদে আসিন থাকা একজন ব্যক্তির…!!! আগামী কি এই সব প্রতারক দের ক্ষমা করবে…???? কনে শিক্ষিত চাকরি প্রার্থীনি তোমার শ্রদ্ধার সালাম পেয়েছি,, মনের অজান্তে তোমাকে মিথ্যা আর্শীবাদ দিয়েছি…. ক্ষমা করো আমাকে…..তুমি শিক্ষিত’ ক্ষমা করো প্রতারক শিক্ষার মর্যাদা না জানা প্রতারকদের….!!!”

এদিকে এই ষ্ট্যাটাসের পর থেকেই সেটি ভাইরাল হতে শুরু করে। রাত পৌনে তিনটা পর্যন্ত প্রায় চার ঘন্টাসময়ে এই ষ্ট্যাটাসটি ১৫টি শেয়ার, ২৯টি কমেন্ট ও ১৫৬ জনে লাইক দিয়েছে।

কমেন্টকারিদের মধ্যে

তুষার চাকমা লিখেছেন, আমি একজন সাধারণকর্মী, আমার বলার কোনো ভাষা নেই। আপনারাই সব রাজ্যের রাজা, আমরাই একমাত্র প্রজা, আমিও ছিলাম সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে।

ফেরদৌস আলম লিখেছেন, চাকুরিদাতা সর্বোচ্চ ব্যক্তিটি প্রতারক।

রিপন চাকমা লিখেছেন, ঢেঁকির নীচে পরে আমরাও ৪০ পার করে ফেললাম। এমএ পাশ সার্টিফিকেট টা এবার বিড়ি খাবো।

সুপ্রিয় চাকমা শুভ লিখেছেন, কে এ অফার দিয়েছে, তার নাম প্রকাশ করুন। কে সেই চাকরিদাতা..?

বিপু তালুকদার আইডি থেকে লিখেছে, জেলা পরিষদের চাকরি বানিজ্যতে দূনীতির শেষ নাই। বিকল্প কায়দায় চাকরি বানিজ্য। মেধার কোনো মূল্যায়ন হয়নি। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে লালিত কয়েকজন নব্য আওয়ামীলীগ নাম ব্যবহারকারি হাইব্রীডদের দিয়ে টাকা কালেকশন করে বিএনপির ঘরের সন্তানদের চাকরি দিয়েছে। খবর নিলেই থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে।