ব্রেকিং নিউজ

ছাদ ধসের অাশঙ্কায় রাঙামাটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা

pic-03
॥ শহিদুল ইসলাম ॥
পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী কলেজ রাঙামাটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। এই কলেজের সাবেক ছাত্র এখন তিন পার্বত্য জেলার সরকারি কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, শিক্ষক হয়েছেন। অথচ এ কলেজের শিক্ষার্থীদের মাথার উপর এখন বাজছে মৃত্যুর ঘন্টা।

ঠিক কখন কোন শিক্ষার্থীর উপর ধসে পড়তে পারে ১৯৭০ সালের পুরনো নির্মিত ক্লাস রুমের পলেস্তার ও বিম। অথচ মহাজোট সরকারের আমলে পার্বত্যাঞ্চলে কোটি কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে এম.পি-মন্ত্রীদের ব্যস্ততা পরিলক্ষিত হলেও এ নিয়ে কাহারো মাথা ব্যাথা নেই বললেই চলে।

pic-01

ফলে যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে অঘটন, ঝড়ে যেতে পারে অকালে তাজা প্রাণ, হারাতে পারে কোন মা তার সন্তানকে, হারিয়ে যেতে পারে পাহাড়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যত!

শিক্ষার্থীরা জানায়, ১৯৭০ সালে নির্মিত রাঙামাটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একাডেমিক ভবন। যা বর্তমানে অবস্থা খুবই নাজুক। তিনতলা ভবনের অন্তত শতাধিক স্থানে পেস্তর জড়ে পড়েছে। বিভিন্ন সময় ছাদ, ছাদের ঢালাই, পলেস্তারা, বিম ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটলেও যেন দেখার কেউ নেই।

অথচ কোনো কোনো রুমের ছাদের একাংশ ধসে পড়া সত্ত্বেও ওই রুমে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। গত-শনিবার দুপুরেও কলেজের নিচতলায় জীর্ণশীর্ণ ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে, অল্পের জন্য রক্ষা পায় কয়েকজন শিক্ষার্থী।

রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বাঞ্ছিতা চাকমা জানান, গত-শনিবার দুপুর ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে এবং বড় ধরণের একটি দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় শিক্ষার্থীরা।

pic-04

তিনি হতাশার সহিত বলেন, তিনতলা বিশিষ্ট কলেজ ভবনের বিভিন্ন স্থানের অবস্থা খুবই নাজুক, প্রায়ই পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটছে। শুধু মূল একাডেমিক ভবনটিই নয়, বেহালদশা কলেজের পুরনো ছাত্রাবাস, গ্যারেজ, অধ্যক্ষর বাসভবনেরও একি অবস্থা।

তিনি আরও বলেন, অন্তত ১০টি ক্লাস রুমে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আমরা ক্লাস করাচ্ছি, অনেক স্থানে ভবনের বিম ফেটে গেছে, প্রায় সময় ধসে পড়ছে পলেস্তারা ও ভবনের বিভিন্ন অংশ।

আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরও অনেকবার লিখিত ভাবে একাধিক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি, অথচ সরকারের কোন কর্তৃপক্ষের যেন রাঙামাটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ব্যাপারে কোনো মাথাব্যথা নেই।

Leave a Reply