৫৯ বছর পর আজ প্রথমবারের মতো রাঙামাটি থেকে যাত্রীবাহি লঞ্চ যাচ্ছে ঠেগামুখ সীমান্তে

॥ আলমগীর মানিক ॥

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির পর এই প্রথম বারের মতো ভারত সীমান্তবর্তী ঠেগামুখ (প্রস্তাবিত স্থল বন্দর) পর্যন্ত যাত্রীবাহি লঞ্চ সার্ভিস চালু হচ্ছে। আজ রোববার সকাল থেকে রাঙামাটি থেকে ঠেগামুখ অভিমুখে যাত্রীবাহি লঞ্চ ছেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ সেলিম উদ্দিন।

লঞ্চ মালিক সমিতি জানায় সম্প্রতি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের স্মারক নং-১৮,১১.০০০০.১২৩.৯৯,৩৩৩.১৭/২১ মূলে ছোট হরিণা বিজিবি জোন কমান্ডার বরাবরে প্রেরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাঙামাটি টু ঠেগামুখ রুটে যাত্রীবাহি লঞ্চ চলাচলে অনুমতি প্রদানের জন্য নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চলতি মাসের ছয় তারিখে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

যার ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট্য সকলের অনুমোদন পাওয়ায় রোববার সকাল থেকে প্রথমবারের মতো যাত্রীবাহি লঞ্চ রাঙামাটি থেকে ছেড়ে ঠেগামুখ অভিমুখে যাত্রা শুরু করবে। ১৯৬০ সালে পার্বত্য রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির পর প্রথমবারের মতো এই রুটটি চালু হওয়ায় রাঙামাটির অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে ব্যবসায়ি নেতৃবৃন্দ।

বিআইডব্লিউটিএ এর পক্ষ থেকে প্রেরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন বিধিমালা-২০১৯ অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী সকল ধরনের নৌযানের রুটপারমিট ও সময়সূচী প্রদানে বিধিবদ্ধ সংস্থা। সেই অনুযায়ী ঠেগামুখ রুটেও সময়সূচী নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের রাঙামাটি একটি পর্যটনকেন্দ্রিক চিত্তাকর্ষক জেলা। জেলার অভ্যন্তরীণ নৌপথে সাধারণ যাত্রী ছাড়াও অসংখ্য পর্যটক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের লক্ষ্যে নৌ-পথে ভ্রমন করে থাকে। ইতিপূর্বে নৌপথে অর্থাৎ রাঙামাটি-ঠেগামুখ পর্যন্ত নৌযানের সময়সূচী দেয়া হলেও সামগ্রিক নিরাপত্তার কারণে নিয়মিতভাবে ছোট হরিণা পর্যন্ত নৌযান চলাচল করে আসছে। সম্প্রতি উক্ত রুটে চলাচলকারী নৌযান মালিকগণ ব্যাপক যাত্রী চাহিদার কারণে ঠেগামুখ পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল/পরিচালনা করতে আগ্রহী হওয়ায় বিষয়টি আপনার গোচরীভূক্ত করা হল।

বাংলাদেশের লেকসিটি হিসেবে খ্যাত রাঙামাটি জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ, হ্রদ ও নৌপথ ভ্রমনে সাধারণ যাত্রীসহ পর্যটকদের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। বর্ণিত নৌপথের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে সাধারণ যাত্রীসহ ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকগণের কাছে ব্যপক জনপ্রিয়তা অর্জন করবে।

আলোচ্য নৌপথটি নিরাপদ ও জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে বিজিবি কর্তপক্ষের সহযোগিতা কামনা করে রাঙামাটি-ঠেগামুখ ভায়া ছোট হরিণা, বরকল নৌপথে চলাচলকারী নৌযান, সাধারণ যাত্রী ও ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকগণের অবাধ ও নির্বিঘœ চলাচল নিশ্চিতকল্পে ঠেগামুখ পযন্ত চলাচলের প্রয়োজনীয় সহযােগীতা ও সম্মতি প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে বিআইডব্লিউটিএ থেকে পাঠানো প্রজ্ঞাপনে।

এদিকে স্থানীয় লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, ঠেগামুখ স্থল বন্দর চালু করবে সরকার। সেই লক্ষ্যে সেখানে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সরকারী বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির পাশাপাশি রাঙামাটিতে আগত পর্যটকরা ঠেগামুখ যাওয়ার ব্যাপারে বেশ আগ্রহী। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারনে সেখানে লঞ্চ যাওয়ার ব্যাপারে বিধি নিষেধ ছিলো।

সম্প্রতি নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার কারনে রাঙামাটির সার্বিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। সময়ের দাবি সময়েই পূরন হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাসহ লঞ্চ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সাধুবাদও জানানো হয়েছে। নৌযাত্রী পরিবহন সংস্থা রাঙামাটি জোনের সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম জানিয়েছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তে ফলে খুব শীঘ্রই সাজেকের মতোই জনপ্রিয় হয়ে উঠবে ঠেগামুখ এলাকাটি, কারন যাত্রীবাহি লঞ্চ চলাচলের ফলে নিরাপদ ভ্রমনের পথ অনেকটাই সুগম হবে বলে আমার বিশ্বাস।

এক প্রশ্নের তিনি জানান, রোববার থেকে রাঙামাটির রির্জাভ বাজারস্থ লঞ্চঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৭টায় ঠেগামুখের উদ্দেশে যাত্রী নিয়ে একটি লঞ্চ ছেড়ে যাবে।অপরদিক ঠেগামুখ থেকেও সকাল ৬টায় রাঙামাটির উদ্দ্যেশে একটি লঞ্চ ছেড়ে আসবে। এদিকে ইতিমধ্যেই নতুন চালু হওয়া এই রুটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করেছে।