ব্রেকিং নিউজ

রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ সম্পাদকের প্রশ্ন: মধ্যরাতে রেষ্ট হাউজে চেয়ারম্যান পুত্রের কাজ কি?

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমার কনিষ্ট সন্তান সুজয় চাকমাকে ইঙ্গিত করে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা প্রশ্ন রেখেছেন সুজয় চাকমা কে? রাত সাড়ে এগারোটার সময় রেষ্ট হাউজে উনার কাজ কি? রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক একাউন্টে নিজের টাইমলাইনে প্রকাশ চাকমা তার বিরুদ্ধে রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্তৃক কোতয়ালী থানায় দায়েরকৃত মামলার বিষয়টি তুলে ধরে বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিটে প্রদত্ত ষ্ট্যাটাসে লিখেছেন,“মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে জেলা পরিষদের কেয়ারটেকার সাদ্দাম এবং সুজয় চাকমাকে কিল-ঘুষি মারধর করা হয়েছে এবং রেস্ট হাউজের সিসি ক্যামেরায় আংশিক ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়েছে।

>মামলার ১ম আসামী হিসেবে অনুরোধ রইলো, সকলের জ্ঞাতার্থে সিসি ক্যামেরায় আংশিক ভিডিও চিত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হোক এবং রেস্ট হাউজের কেয়ারটেকার সাদ্দামকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হোক।

>প্রশ্ন রইলো- সুজয় চাকমা কে? রাত ১১ঃ৩০মিনিটে রেস্ট হাউজে ঊনার কাজ কি?

এ বিষয়ে মামলার বাদী জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনতোষ চাকমা’র(০১৮৫২২৬৬৭৭৩) বক্তব্য “আমি এ বিষয়ে পুরোপুরি কিছুই জানিনা, অফিসের দায়িত্ব থেকেই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশে-এ মামলার বাদী হয়েছি।”

তারও আগে ৪টা ১২ মিনিটের সময় দেওয়া ষ্ট্যাটাসে প্রকাশ উল্লেখ করেন, “ব্যক্তি-কে নয়; অঞ্চলভিত্তিক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে মিথ্যা, প্রহসন, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে মুজিববর্ষেই(২০২০) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে আঘাত কিংবা আক্রমণ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অপশক্তি তথা আওয়ামীলীগের বিরোধী শক্তিকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত: গত ৮ই জানুয়ারী রাতের বেলায় চাহিত রুম বরাদ্দ না দেওয়ার অজুহাতে রাঙামাটি জেলা পরিষদেরর নিজস্ব রেষ্ট হাউস ভাংচুর করার অভিযোগে ১১ই জানুয়ারী বেলা সাড়ে এগারোটার সময় রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমাসহ ৫জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় লিখিত এজাহারের মাধ্যমে মামলা করেছেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনোতোষ চাকমা। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানাগেছে, প্রকাশ চাকমা(২৬), রিপন(২৫), জয় ত্রিপুরা(২৭), নাফিজ(২৩), ও অভিজিৎ চাকমা(২৪)। এই পাঁচজন অনুপ্রবেশকারি গত ৮/০১/২০২০ইং তারিখ রাত সাড়ে এগারোটার সময় রাঙামাটি জেলা পরিষদের নিজস্ব বিশ্রামাগারে চৌকিদার সাদ্দাম হোসেনের নিকট কক্ষ বরাদ্দ চায়। এসময় কোনো কক্ষ খালি নেই জানালে অভিযুক্তরা রাগান্বিত হয়ে সাদ্দামকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। এক পর্যায়ে সাদ্দামের শার্টের কলার ধরে কিল-ঘুষি মারতে থাকে।

এসময় সাদ্দামের চিৎকার শুনে বিশ্রামাগারে অবস্থানরত সুজয় চাকমা এসে সাদ্দামকে মারপিটের হাত থেকে বাঁচাতে চেষ্টা করলে অনুপ্রবেশকারিরা সুজয় চাকমাকেও শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করে।
এসময় তারা বিশ্রামাগারে অনধিকার প্রবেশ করিয়া বারান্দায় রাখা সোফা সেট ভাংচুর করে, বেশ কয়েকটি ফুলের টপ ভেঙ্গে ফেলে এবং কয়েকটি ডাষ্টবিন ভাংচুর করে। এই ঘটনার আংশিক চিত্র বিশ্রামাগারের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা আছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনায় দাখিলকৃত এজাহারের ভিত্তিতে কোতয়ালী থানায় ১৮৬০ সনের পেনাল কোড আইন ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৪২৭ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা নাম্বার-০৭, তারিখ: ১১/০১/২০২০ইং। মামলায় উল্লেখিত বিষয়টি তদন্তাধীন আছে এবং সেই আলোকে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণে কোতয়ালী থানা পুলিশ কাজ করছে বলে থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।