শান্তিচুক্তির ফলে পাহাড়ে ১০হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন চলছেঃ বীর বাহাদুর এমপি

॥ ইকবাল হোসেন ॥

শান্তি চুক্তির ফলে পাহাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন চলছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং এমপি। তিনি আরো বলেন পাহাড়ে যত শান্তি বিরাজ করবে সরকার ততই পাহাড়ের উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়িয়ে দিবে কারন পাহাড়ের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথেষ্ঠ আন্তরিক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু এ্যাডভেঞ্চার ফেস্টিভাল ২০২০’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি একথা বলেন।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাইনি মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব মেজবা উল ইসলাম, রাঙামাটি ৩০৫ পদাতিক বিগ্রেডের ব্রিগেড কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মাইনুর রহমান, ভারতের ন্যাশনাল এ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা রাম সিং ভার্মা, বঙ্গবন্ধু এ্যাডভেঞ্চার ফেস্টিভাল ২০২০ এর উপদেষ্টা লে. কর্ণেল এটিএম জহিরুল ইসলাম (অব.) সহ বিভিন্ন দেশ আগত আমন্ত্রিত অতিথিবর্গ ও সরকারি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং বঙ্গবন্ধু এ্যাডভেঞ্চার ফেস্টিভাল ২০২০ এ অংশগ্রহণকারী ১০০জন এ্যাডভেঞ্চারার উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য মন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু’র জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশ বিদেশের এ্যাডভেঞ্চারারদের নিয়ে এরকম একটি এ্যাডভেঞ্চার উৎসব আয়োজন করায় উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন এর ফলে পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন খাতে আমূল পরিবর্তন আসবে। কারন যারা এতে অংশ নিয়েছে তারা আমাদের ব্রান্ড এম্বাসেডর হিসেবে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে দেশে বিদেশে জানাবে।

তিনি আরো বলেন আমি নিজেও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি তখন ৪০/৫০ কোটি টাকা বাজেট থাকতো। কিন্তু যখন পাহাড়ের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির পর্যায়ে এলো তা বেড়ে ২৫০/৩০০ কোটি হল এরপর এখন ১০হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। তাই পাহাড়ের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যত উন্নতি হবে পাহাড়ে উন্নয়ন বাজেট তত বাড়বে। এছাড়াও তিনি এ্যাডভেঞ্চারে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্য বলেন আমি আশা রাখছি যে এই এ্যাডভেঞ্চার তোমাদের ভবিষ্যৎ জীবনে কাজে লাগবে। তিনি এ্যাডভেঞ্চারারদের সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন।

আলোচনা সভার পর অতিথিরা অভিযাত্রীদের হাতে সম্মাননা স্বারক ও পুরষ্কার তুলে দেন। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে ক্রেস্ট ও বিশেষ পুরষ্কার তুলে দেন। এরপর প্রধান অতিথি “বঙ্গবন্ধু এ্যাডভেঞ্চার এওয়ার্ড ২০২০” বাংলাদের প্রথম নারী এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত মজুমদারের হাতে ক্রেস্ট ও নগদ ১লক্ষ টাকা তুলে দেন। পুরষ্কার বিতরণের পর স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ফানুস উড়ানো ও আতশবাজি উৎসবের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু এ্যাডভেঞ্চার ফেস্টিভাল ২০২০ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়।