রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যার হুমকি!

॥ আলমগীর মানিক-সুমন ॥

রাঙামাটি জেলা পরিষদে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের মনোনীত চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমাকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা। চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত মুঠোফোন নাম্বারে এসএমএস এর মাধ্যমে এই হুমকি প্রদানের তথ্য উল্লেখ করে শুক্রবার রাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন রাসেল চৌধুরী নামের একজন ইউপি চেয়ারম্যান।

বাঘাইছড়ির আমতলী ইউনিয়ন পরিষদের এই চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের পরিচয় দিয়ে বাঘাইছড়ি থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছেন, গত ১৪/০১/২০২০ তারিখ সকাল ৭:৫৩ টা, বিকেল ৩:২৮ টা এবং র সময় বৃষ কেতু চাকমার ব্যক্তিগত মুঠোফোনের রবি নাম্বারে (০১৮৪৩০…৮৯), এবং পরের দিন ১৫/০১/২০২০ ইং তারিখ রাত ৯:৪২ মিনিটের সময় এসএমএস পাঠিয়ে গুলি করে মেরে ফেলাসহ নানা রকম অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।

প্রথমদিন টেলিটক নাম্বার ০১৫৫৬৬০৪৯১৬ এবং দ্বিতীয় দিন বাংলালিংক নাম্বার ০১৯৬৩৬৩২৯০৭ নাম্বার থেকে ইংরেজি অক্ষরে চাকমা ভাষায় লিখে এই হুমকি প্রদান করা হয়েছে বলে থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ধরনের অত্যন্ত খারাপ, বিশ্রী-অপমানজনক ও মান হানিকর এসএমএস হুমকি পেয়ে রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা লজ্জায় কারো সাথে বিষয়টি শেয়ার করতে পারছেননা এবং তিনি মানসিক-শারীরিকভাবে অসুস্থবোধ করছেন বলেও অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে রাঙামাটি বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ এম এ মঞ্জুর শুক্রবার রাতে অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং থানা পুলিশ সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, পার্বত্য শান্তিচুক্তির শর্তানুসারে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত করবে স্থানীয় বাসিন্দারা। নানা জটিলতায় পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে নির্বাচন না দিয়ে সরকারের নির্বাহী আদেশে বর্তমান জেলা পরিষদগুলোতে নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় রাঙামাটিসহ পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদে বর্তমান দায়িত্বরত পরিষদের মেয়াদকাল নিয়মানুসারে বিগত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসেই শেষ হয়ে যায়।

সরকারের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী পর্যায় থেকে নির্বাহী আদেশ না আসায় এখনো পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়কাল দায়িত্ব পালন করছে বর্তমান পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। যেকোনো সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ফ্যাক্স বার্তা আসার অপেক্ষায় থাকা রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি ভাবিয়ে তুলেছে সংশ্লিষ্ট্যদেরকে।