সাংগু’র বুকে প্রাকৃতিক পাথর!

॥ নুরুল কবির ॥

বান্দরবানের থানচিতে সু-উচ্চ পাহাড়ের বুকচিরে প্রবাহমান নদীর নাম সাংগু। এ নদীর নানাস্তরে রয়েছে অসংখ্য প্রাকৃতিক পাথর। এসব পাথরের মধ্যেই সবচেয়ে বড় এবং দৃষ্টিনন্দিত পাথরের নামই হচ্ছে রাজা পাথর। আস্ত পাথরটি নদীর পানির মাঝখানেই দিব্যি দন্ডায়মান । এছাড়া রয়েছে আদালত পাথর।

বান্দরবান জেলা সদর থেকে থানচি উপজেলা সদরের দুরত্ব ৮৫কিলোমিটার। জেলা সদর থেকে মাত্র তিন ঘন্টায় সড়কে পথে যেকোন গাড়িতে যাওয়া যায় থানচি উপজেলা সদরে। থানচি উপজেলা সদর থেকে বোটে সাংগু নদীপথে উজানের দিকে ১২কিমি পথ পাড়ি দিলেই(তিন্দু ইউনিয়ন এলাকাভুক্ত) দেখা যাবে রাজাপাথরসহ পুরোনদী জুড়েই বিস্তৃত বিশাল বিশাল প্রাকৃতিক পাথরের অবস্থান। সু-উচ্চ পাহাড়চিরেই সাংগু নদী বয়ে গেছে। শুস্ক মৌসুমে তো কোন মতে পানি ডিংগিয়ে পাথরের পাশঘেঁষেই ছোট ছোট নৌকা চলাচলের সুযোগ আছে,কিন্তু বর্ষায় উজানের পানিভরা এই পাথরের ওপর দিয়ে কিংবা পাথরঘেঁষে যাত্রীবাহী নৌকা চলাচল মোটেই নিরাপদ নয়। জীবনের অতিঝূঁকিতে এই পাথরবেষ্টিত নদীপথে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিবছরই একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতও আহত হন স্থানীয়সহ বেশকিছু মানুষ।

পর্যটকদের জন্যে থানচি সদর থেকে বড়মদক পর্যন্ত প্রায় ৫৫কিমি পানি পথ ভ্রমনের জন্যে উন্মুক্ত থাকলেও নদীপথে থাকা বড় বড় প্রাকৃতিক পাথরসমুহ সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় বসানোর কোন উদ্যোগ এযাবত কোন মহলই গ্রহণ করেনি। প্রশাসন কিংবা সরকারি মহলের এ বিষয়ে নেই কোন পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত।

থানছি পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মং প্রু অং বলেন, সারাদেশ থেকে বান্দরবানে ভ্রমনে আসা বেশির ভাগ পর্যটকই থানছি উপজেলার দুর্গম এলাকার আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট বা পর্যটন কেন্দ্রসমুহ একনজর দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু পাহাড়ের দৃশ্যসহ বৃক্ষরাজি অবলোকন করার পরও তারা সুদুর থানচি উপজেলার প্রাকৃত পাথর এবং গিরিঝর্ণার পানির প্রবাহ দর্শনে মরিয়া হয়ে পড়েন। পরিবেশ ও পাথর বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠনপুর্বক নদীর নানাস্থানে থাকা আস্তপাথরসমুহে নিরাপদ স্থানে সরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এসব এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পারে। এতে স্থানীয় পাহাড়ি পরিবারগুলো তাদের হ্যান্ডি ক্রাফটও বেশি বিকিকিনি করার সুযোগ পাবেন। ফলে দুর্গম এলাকার শত শত পাহাড়ি পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতাও বৃদ্ধি পাবে বলে এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বলছেন।

থানচি উপজেলা প্রশাসন জানান, প্রতিবছর বর্ষায় ওই এলাকায় উজানের পানির বৃদ্ধির ফলে ৩মাস পর্যন্ত ভ্রমণ নিরাপত্তাজনিত কারণে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়। নদীর বুকে প্রাকৃতিকভাবে সৃজিত আস্তপাথরসমুহ সরানো কঠিন বিষয়,তাই নিজেদের নিরাপত্তা ও সতর্কতার সাথে যাত্রীদের নৌকায় চলাচল করতে হয়। যুগযুগ ধরেই এ অবস্থা চলমান রয়েছে। তবে আগামীতে পানি পাথর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে থানচি থেকে বড়মদক পর্যন্ত পানিপথ সারাবছর ধরেই কি ভাবে নিরাপদ রাখা যায় সেই বিষয়ে উচ্চ মহলে চিঠি চালাচালি করা হচ্ছে।