বাঙালী সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে বান্দরবানে অস্থায়ী ল্যান্ড কমিশন অফিস উদ্বোধন

॥ নুরুল কবির ॥

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম ভবনের ৩য় তলায় দুইটি কক্ষ নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (ল্যান্ড কমিশন) এর শাখা অফিস উদ্বোধন হয়েছে। গতকাল সোমবার কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারউল হক অস্থায়ী নতুন অফিসের উদ্বোধন করেন। সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অফিসের কার্যক্রম শুরু হলো। অফিস উদ্বোধনের পর ল্যান্ড কমিশন চেয়ারম্যানের রুমে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনার সময় উপস্থিত ছিলেন, ল্যান্ড কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারউল হক, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পষিদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, বান্দরবান বোমাংরাজা উ চ প্রু ও রাঙ্গামাটির চাকমা সার্কেলের রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় এর প্রতিনিধি পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার ও সংরক্ষণ এর জেলা আহ্বায়ক জোয়ামলিয়ান আমলাই এবং ল্যান্ড কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিন। আলোচনা সভায় গত ২৩ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত সভার কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া অভ্যন্তরীণ উপজাতীয় বিষয়ক টাস্কফোর্স এর শরণার্থী তালিকা নিয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে ল্যান্ড কমিশনের চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, টাস্কফোর্স থেকে শরণার্থী তালিকা এখনো দেয়া হয়নি। হাতে পাওয়ার পর শরণার্থীদের পূর্ণবাসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। আগামী মাসের ২২শে মার্চ রাঙ্গামাটিতে কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আরো বিস্তারিত আলোচনা হবে।

তিনি আরো বলেন, জোর করে কাউকে ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হবে না। বিশেষ করে বাঙ্গালী ভাইদের। এখানে সাংবিধানিক ভাবে যে বিধান আছে সেভাবে আমরা বিরোধ নিষ্পত্তি করব। আইন সংশোধন করার ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই।

এদিকে ল্যান্ড কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারউল হক বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে আসার আগে থেকে জেলা পরিষদের গেইটের পাশের রাস্তায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের ব্যানারে কয়েকশ বাঙ্গালী নারী-পুরুষ সেখানে জড়ো হয়। সেখানে পরিষদের নেতারা বাঙ্গালীদের অধিকারের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। পার্বত্য বাঙ্গালীদের মধ্য থেকে ল্যান্ড কমিশনে সদস্য রাখা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কয়েকটি আইন সংশোধনের দাবি জানান। পরে ল্যান্ড কমিশনের চেয়ারম্যান জেলা পরিষদের গেইটের কাছে পৌছালে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যানের গাড়ী প্রায় ১৫মিনিট অবরোধ করে। গাড়ীর ভেতরে অবস্থান নেয়া ল্যান্ড কমিশনের চেয়ারম্যানে হাতে তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে একটি লিখিতআবেদন তুলে দেন।

এদিকে,সংগঠনের আহবায়ক আলকাছ আল মামুন ভূইয়া বলেন, শর্ষের মধ্যে ভূত আছে। ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনে পাহাড়ের কোনো বাঙ্গালী প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি। কমিশনের সদস্য তিন পরিষদ চেয়ারম্যান, ৩ সার্কেল চীফ (রাজা) এবং আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সকলেই পাহাড়ী। এবং তারা উভয়ে শুধুমাত্র ৩টি জনগোষ্ঠীর। এখানে পাহাড়ের ১১টি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী এবং বাঙ্গালী সকলের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি। কমিশনের চলমান কর্মকান্ডকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে সাধুবাদ জানিয়ে পাহাড়ের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা এবং সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে ভূমি কমিশন আইনটি সংশোধনের দাবী জানাচ্ছি।