রাঙামাটির দুই এনজিওকে কালো তালিকাভূক্তির দাবি পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে!

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

পার্বত্য চট্টগ্রামে কাজ করা বিদেশী দাতা সংস্থা ইউএনডিপি কর্তৃক অর্থায়নে কমিউনিটি এমপাওয়ামেন্ট প্রজেক্ট (সিইপি) নাম প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জড়িত বেসরকারী এনজিও শাইনিং হিল এর বিরুদ্ধে উক্ত প্রকল্পটির অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।  সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, এনজিও ব্যুরোর মহা-পরিচালক, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক, রাঙামাটি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে একটি অভিযোগ পত্রের মাধ্যমে এই লুটপাটের অভিযোগ জানানো হয়েছে।

উক্ত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির পরবর্তী সময় থেকে পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নে সরকারী-বেসরকারি পর্যায় ছাড়াও এনজিওগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
যার ধারাবাহিকতায় পাহাড়ে কাজ করা এনজিওগুলোতে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে বিদেশী দাতা সংস্থাগুলো। পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে এবং অত্রাঞ্চলের পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় বিদেশী সংস্থাগুলো স্থানীয় এনজিওগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে ধারাবাহিকভাবে।

দরিদ্র জনগোষ্ঠির ভাগ্যোন্নয়নে প্রদত্ত এসব আর্থিক সহযোগিতার চিত্র কিছু স্টিল ছবি আর চিহ্নিত কয়েকটি স্থান ছাড়া রাঙামাটির আর কোথাও দৃশ্যমান নয়। পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে প্রদত্ত অভিযোগ পত্রের মাধ্যমে সেই লুটপাটের চিত্রই তুলে ধরেছেন জনৈক মোঃ রবিউল হোসেন তালুকদার, মোঃ ইউছুপ, মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন, অনুপম চাকমা, রবিধন চাকমা ও আলোময় চাকমা কর্তৃক প্রদত্ত অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, জলবায়ু ফান্ড মেরে দেওয়া বিতর্কিত এনজিও পাড়া সংস্থার পর এবার রাঙামাটির এনজিও শাইনিং হিল কর্তৃপক্ষ ইউএনডিপি কর্তৃক প্রদত্ত কমিউনিটি এনপাওয়ারমেন্ট প্রজেক্ট (সিইপি) লংগদু ও নানিয়ারচর, কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক প্রজেক্ট, ভিসিএফ প্রজেক্ট, কাপ্তাই উপজেলার বাস্তবায়িত প্রকল্পের অর্থ সুকৌশলে লোপাট করা হয়েছে।

অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মৌলিক শিক্ষা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের বিষয়ে রাঙামাটি জেলার সংশ্লিষ্ট্য সরকারী দপ্তরগুলো অবহিত নয় এবং এই প্রকল্পটি দেখভাল করার কোনো কর্তৃপক্ষ নেই বিধায় উক্ত প্রকল্পটি নিয়ে নানা দূর্নীতি অনিয়মে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

এই ধরনের দূর্নীতির কারনে এনজিও সেক্টরের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নসহ এনজিওদের ব্যাপারে নীতিবাচক ধারনার সৃষ্টি হচ্ছে। এই ধরনের কর্মকান্ডে জড়িত এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে পাড়া ও শাইনিং হিল এনজিওগুলোকে কালো তালিকাভূক্তির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে উক্ত অভিযোগ পত্রে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নজরে আসায় ইতিমধ্যেই রাঙামাটির বড় বড় এনজিওগুলো নিয়ে প্রশাসনের মাঝেও দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে।

এ নিয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, একটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। তিনি জানান, আমার ফাইলে উক্ত অভিযোগপত্রটি আসার পর আমি সেটিকে গুরুত্বদিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দিয়েছি।

এদিকে উপরোক্ত অভিযোগের ব্যাপারে শাইনিং হিল এনজিওর স্বত্ত্বাধিকারি মোহাম্মদ আলী জানিয়েছে, এসবকিছুই ষড়যন্ত্র, মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ। আমাকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে এসব করাচ্ছে একটি চক্র। জনাব আলী জানান, তার নিজস্ব ডিষ্ট্রিবিউটর ব্যবসা রয়েছে, সেটির মাধ্যমেই তিনি চলেন। এনজিওর আয়ে তার সংসারও ঠিকমতো চলেনা। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন মন্তব্য রাঙামাটি এসে জেলা প্রশাসকের সাথে বিয়টি নিয়ে আলাপ করবেন বলেও জানিয়েছেন।