মুজিববর্ষে রাঙামাটিতে বাল্যবিয়ে শূন্যের কোটায় আনার ঘোষণা দিলেন জেলা প্রশাসক

॥ আলমগীর মানিক ॥

মুজিব বর্ষে রাঙামাটি জেলায় কোনো ধরনের বাল্য বিয়ে হতে দেওয়া হবেনা জানিয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেছেন, মুজিববর্ষকে কেন্দ্র করে জেলায় বাল্য বিয়ে শূন্যের কৌটায় আনা হবে। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সকলেরই এ ব্যাপারে সহযোগিতা করার দরকার এবং জেলার কোথাও বাল্য বিয়ে হলে সেটি তাৎক্ষনিকভাবেই জেলা প্রশাসন অথবা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর আহবানও জানিয়েছেন তিনি। রোববার জেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা থেকে জন্মসনদ সংগ্রহ করে সেগুলো কাজীকে দেখিয়ে ১২ থেকে ১৬ বছরের মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে সভার সদস্যরা এমন তথ্য দিলে জবাবে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, জন্ম সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট্যদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। সভাপতি বলেন, রাঙামাটিতে মাদকের অবাধ ব্যবহার বন্ধসহ মাদক নির্মূলে এখন থেকে মাদক বিরোধী ট্রাস্কফোর্সের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকের আখড়াগুলোতে নিয়মিতভাবেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

রাঙামাটি জেলায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয় বেশি, সেগুলোসহ মসজিদ, মন্দির থেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সবগুলোতে মাদক, জঙ্গীবাদ, বাল্যবিয়েসহ সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে ধর্মীয়গুরুদের মাধ্যমে বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভায়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী’র সঞ্চালনায় উক্ত সভায় রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ছুফি উল্লাহ, পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, বিএফডিসির ব্যবস্থাপক নৌ বাহিনীর কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান রোমান, রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, বাঘাইছড়ি পৌরসভার মেয়র জাফর আলী খানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, সরকারী অফিসগুলোর প্রতিনিধি, সাংবাদিক প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আগামী বর্ষা মোকাবেলায় রাঙামাটির অভ্যন্তরীন সড়কগুলো ও রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ভাঙ্গনকৃত অংশগুলো দ্রুততম সময়ে মেরামত করার আহবান জানানো হয়েছে। এছাড়াও কাপ্তাই হ্রদে বিলুপ্ত হতে যাওয়া চিতল মাছ সংরক্ষনে এবং মাছের বৃদ্ধিতে কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন অভয়াশ্রমে গাছের গুড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্তও গৃহিত হয় সভায়।

এসময় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকার ৩৩৩ থেকে শুরু করে ৯৯৯সহ বিভিন্ন হটলাইন নাম্বার চালু করেছে যেগুলোর মূল লক্ষ্যই হলো সরকারের সার্বিক কর্মকান্ডে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সরকারের সমুহ সেবাগুলো তৃণমুল পর্যায়ে পৌছে দেওয়া। এই হটলাইন নাম্বারগুলো গ্রাম পর্যায়ে সকল স্তরের জনসাধারনের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলেই জনগণ তাদের কাঙ্খিত সেবা প্রাপ্ত হবে। এই লক্ষ্যে সরকারী কর্মকর্তাগণসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার অনুরোধও করেছেন আইনশৃঙ্খলা সভার সভাপতি ও রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ।