ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ ও ঐক্য নষ্ট করার জন্য শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়েছেঃ প্রকাশ

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও ঐক্য নষ্ট করার জন্য শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গমাটি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা। যুবলীগ নেতা নাসির হত্যাচেষ্টা মামলায় সোমবার দুপুরে শহরের তবলছড়ি বাজার থেকে ছাত্রলীগ নেতা মীর শাকিলের গ্রেফতারের বিষয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। তিনি এ ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাদের জড়িয়ে মামলা করা এবং মামলায় ছাত্রলীগের নেতাকে গ্রেফতার করায় জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তিনি সম্পূর্ণ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রলীগ-যুবলীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা নাসির উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার বিষয়ে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ দীপংকর তালুকদার জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাজী কামাল উদ্দিন ও যুগ্ন সম্পাদক আব্দুল মতিনকে বিষয়টি সমাধান ও যাচাই-বাছাই করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৭ ফেব্রুয়ারী একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাজী কামাল উদ্দিন ও যুগ্ন সম্পাদক আব্দুল মতিন, জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ অন্যান্য নেতবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পুরোপুরি সমাধানের পথ সুগম না হওয়ায় ৯ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় আবারো বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয় কিন্তু তার আগেই একটি কুচক্রী মহল ও দলের মধ্যে বিভক্তি চাওয়া অপশক্তির বুদ্ধি ও পরামর্শে নাসিরের মা ও স্ত্রীসহ স্বজনরা মিলে মানববন্ধন কর্মর্সূচি পালন করায় বিষয়টি নিয়ে পুনরায় বৈঠক করা আর সম্ভব হয়নি।

মিঃ প্রকাশ আক্ষেপের সাথে বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণ যুবলীগের অভ্যন্তরীণ কিন্তু তারপরও এখানে কেনো ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দদের জড়ানো হয়েছে এ বিষয়টি আমার বোধগম্য হচ্ছে না।”

উল্লেখ্য, ২৭ জানুয়ারি রাঙ্গামাটি শহরের রাঙ্গাশ্রী কমিউনিটি সেন্টারে ডেকে নিয়ে যুবলীগ নেতা নাসিরকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। নাসিরকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠায়। সেখানেই একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে নাসির তার বাসায় আছেন। হামলার ঘটনার ৩ দিন পর ৩০ জানুয়ারি কোতয়ালি থানায় নাসিরের স্ত্রী সালেহা আক্তার তার স্বামীকে ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলা করে। এই মামলায় জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৮ জন নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়। মামলা দায়ের করার ১২ দিনেও কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় ৯ ফেব্রুয়ারি রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে আহত নাসিরের মা,স্ত্রী,সন্তান ও ভাইবোনসহ পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে হামলার ঘটনার ১৩ দিন পর ১০ ফেব্রুয়ারি এই মামলার ৫ নং অভিযুক্ত মীর শাকিলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।