ভিত্তিহীন ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থীভাবে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছেঃ আ’লীগ নেতার সাংবাদিক সম্মেলন

॥ কাপ্তাই প্রতিনিধি ॥

বাংলাদেশ আ.লীগের কাপ্তাই উপজেলা শাখার সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বিপ্লব মারমা শুক্রবার (২১ফেব্রুয়ারি) সকালে চন্দ্রঘোনা আঞ্চলিক ব্যাপ্টিষ্ট চার্চের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি কাপ্তাই উপজেলা আ.লীগের সভাপতি অংসুইছাইন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল কর্তৃক গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তাকে আ.লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ হতে বহিস্কার করাকে সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্র পরিপন্থী, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আ.লীগের গঠনতন্ত্রের ৪৭ এর (চ) ধারা মোতাবেক উপজেলা আ.লীগ একক ক্ষমতাবলে কোন সদস্যকে উপজেলার যেকোন পদ এবং সাধারণ সদস্য হতে বহিস্কার করতে পারেনা, তারা জেলার কাছে সুপারিশ করতে পারে এবং জেলা কেন্দ্রের কাছে সেটা পাঠাবে। কিন্তু উপজেলা আ.লীগের সভাপতি অংসুইছাইন চৌধুরী এবং সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল আত্মপক্ষ সর্মথনের সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে তাকে বহিস্কার করেন, যা সংগঠনের গঠনতন্ত্রী পরিপন্থী।

তিনি বলেন, সামনে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য প্রার্থীর দোঁড়ে আমি এগিয়ে থাকায় ঈষার্ন্বিত হয়ে অংসুইছাইন চৌধুরী এই কাজ করেছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আ.লীগ নেতা বিপ্লব মারমা বলেন, অভিযোগকারী কাপ্তাই রাইখালীর ডংনালা আমতলী পাড়ার বাসিন্দা থোয়াইঅংপ্রু মারমা রাঙামাটি পুলিশ সুপার বরাবরে রাইখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মংক্য মারমার বিরুদ্ধে পুলিশ কনস্টবলে চাকরি দেবার নাম করে সাড়ে সাত লাখ টাকা গ্রহন করার অভিযোগ প্রদান করেন, কিন্তু সেই অভিযোগে আমার নাম না থাকা সত্ত্বেও আমাকে উপজেলা আ.লীগ সভাপতি-সম্পাদক সাক্ষরিত গত ৮/১২/২০১৯ তারিখে উপজেলা আ.লীগের দলীয় প্যাডে গত বছরের ১১ই ডিসেম্বর সকাল ১১টায় উপজেলা তৃতীয় শ্রেণীর ক্লাবে উপস্থিত হবার নির্দেশ প্রদান করে। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আমি ৯/১২/১৯ তারিখে এক চিঠির মাধ্যমে আমার ব্যক্তিগত কারণে থাকতে পারবোনা জানিয়ে সময় প্রার্থনা করে সভাপতি বরাবরে একটি আবেদন করি। কিন্তু উক্ত আবেদনের তোয়াক্কা না করে ঐ দিন তারা একতরফা ভাবে আমাকে না জানিয়ে দোষী সাবস্ত্য করে এবং যা আমাকে অবহিত করেনি। অথচ বাদী মংক্য মারমার বিরুদ্ধে টাকা গ্রহনের অভিযোগ করেছে কিন্তু সেখানে আমার নাম নেই।

বিপ্লব মারমা আরও জানান, রাইখালীর ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি মংক্য মারমা আমার নামে অভিযোগ করার প্রেক্ষিতে গত ৫/১/২০২০ তারিখে তার বিরুদ্ধে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়। জবাবে মংক্য মারমার আর একটি উকিল নোটিশ এর মাধ্যমে জানান যে, ২’জন সাক্ষীর সম্মুখ্যে পুলিশ কনস্টবেল পদে রাইখালীর ডংনালার সাক্যচিং মারমাকে চাকরি দেবার নাম করে টাকা গ্রহণ করেন। অথচ সেই ব্যক্তিকে আমি কখনও দেখিনি, চিনিও-না! অতএব টাকা গ্রহন করার প্রশ্নই আসেনা। আর অভিযোগে যেই দুইজন সাক্ষীর নাম উল্লেখ আছে তারা মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সেই বিষয়টা পুঁজি করে উপজেলা আ.লীগ সভাপতি অংসুইছাইন চৌধুরী আমাকে বহিস্কার পূর্বক আমার ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুন্ন করেছে।
বিপ্লব মারমা বলেন, আমি একজন সাবেক জাতীয় কৃতি ফুটবলার, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ সংঘের নির্বাচিত সভাপতি, দেশ বিদেশে আমার সুনাম রয়েছে। তাই আমি গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কাপ্তাই উপজেলা আ.লীগ সভাপতি অংসুইছাইন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল এর বিরুদ্ধে আমার উকিলের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে আমি তাদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে ২’কোটি টাকার মানহানির মামলা করবো।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষিতে উপজেলা আ.লীগ সভাপতি অংসুইছাইন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এই ব্যাপারে তার কোন মন্তব্য নেই।