ব্রেকিং নিউজ

কাপ্তাইয়ে বনবিভাগের অভিযানে ১০গাড়িসহ কোটি টাকার কাঠ আটক!

॥ আলমগীর মানিক ॥

নানামুখি প্রশাসনিক তৎপরতার মাধ্যমেও পাহাড়ের বনাঞ্চল থেকে কাঠ পাচার বন্ধ করতে পারছেনা বনবিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসন যন্ত্র। আঞ্চলিকদলগুলোর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে প্রভাবশালী চক্র প্রতিনিয়তই প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পাহাড় থেকে পাচার করছে মূল্যবান সেগুনসহ দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের কাঠ।

কাঠ পাচারকারি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বনজ সম্পদ রক্ষায় বেশ হিমশিম খাচ্ছে অত্রাঞ্চলের বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ। গত দুই মাসে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলাতেই অবৈধভাবে পাচারকালে অন্তত ১০টি গাড়ি ও একটি ইঞ্জিন চালিত বোটসহ অন্তত এক কোটি টাকার কাঠ জব্দ করেছে কাপ্তাই রেঞ্জ কর্তৃপক্ষ।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে কাপ্তাই রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা এসএম মাহবুব-উল আলম জানিয়েছেন, শনিবারও জ্বালানী কাঠ ভর্তি একটি গাড়ি আটক করা হয়েছে। এনিয়ে গত দুই মাসে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলাস্থ বনবিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করে কোটি টাকার কাঠ জব্দের পাশাপাশি বন আইনে ৩৭টি মামলা দায়ের ও তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

রেঞ্জ কর্মকর্তা জনাব মাহবুব উল আলম জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাপ্তাইস্থ সেভেন আরই, ৪১ বিজিবি কাপ্তাই ব্যাটালিয়ান ও কাপ্তাই থানা পুলিশের সহায়তা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান শাহ এর নির্দেশনায় এবং সহকারি বন সংরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে এসব কাঠ,গাড়ি ও বোট আটক করা হয়েছে।

তিনি জানান, সম্প্রতি কাপ্তাইয়ের জীবতলী, ধনপাতা, ওয়াগ্গাছড়া, কুকিমারা, কাপ্তাই শিল্প এলাকা ও কর্ণফূলী নদী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ঘনফুট মূল্যবান সেগুন, গামারি, কড়ই প্রজাতির কাঠ, দেড় হাজারেরও অধিক জ্বালানি কাঠ জব্দ করা হয়। এসময় নয়টি জীপ গাড়ি, একটি পিকআপ এবং একটি বোটও আটক করা হয়েছে।

রেঞ্জ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাহাড়ের বন থেকে চুরি এবং অনুমোদন নানিয়ে অবৈধভাবে পাচারকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব কাঠ ও গাড়ি আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, অবৈধ কাঠ পাচারকারিদের বিরুদ্ধে বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবেই অভিযান পরিচালনা করছে। ইতিমধ্যেই বনবিভাগের সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেকটা বাড়িয়েছে সরকার। স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক সহায়তা নিয়ে কাঠ পাচার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বেশ কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।