বঙ্গবন্ধুর প্রথম পাঠশালা

১৯২৭ সাল। বঙ্গবন্ধুর বয়স সাত বছর। টুঙ্গিপাড়ার গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন তিনি। এই মিডল ইংলিশ স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা তারই ছোট দাদা খান সাহেব আবদুর রশিদ। তখনকার দিনে ওই এলাকায় এটিই ছিল একমাত্র ইংলিশ স্কুল। এখানে চতুর্থ শ্রেণির কিছুদিন পর্যন্ত তিনি পড়েছেন। তারপর বাবার সঙ্গে তার কর্মস্থল গোপালগঞ্জে চলে যান। ভর্তি হন গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে।

১৯৩৪ সাল। তিনি তখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হওয়ায় হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়ে যায় তার। বাবা তাকে নিয়ে যান কলকাতায়, চিকিৎসা করাতে। চিকিৎসা ও বিশ্রামের জন্য দুই বছর পড়াশোনায় বিরতি পড়ে।

১৯৩৬ সাল। বাবা মাদারীপুরে বদলি হলেন। তিনিও বাবার সঙ্গে সেখানে গিয়ে সপ্তম শ্রেণিতেই ভর্তি হলেন, মাদারীপুর হাই স্কুলে। কিন্তু আবারও অসুখে পড়লেন তিনি। এবার চোখে গ্লুকোমা। আবারও যেতে হলো কলকাতা, চিকিৎসার জন্য।

১৯৩৭ সাল। চিকিৎসা শেষে ফিরে আর পুরনো স্কুলে পড়তে চাইলেন না তিনি। কারণ সহপাঠীরা ওপরের ক্লাসে উঠে গেছে। বাবা তাকে ভর্তি করিয়ে দিলেন গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে।

১৯৪২ সাল। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল থেকে দ্বিতীয় বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করলেন আমাদের বঙ্গবন্ধু।

তথ্য সূত্রঃ 

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’,

দেবব্রত দেব রায়ের ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনে স্মরণীয় ঘটনা’

আবদুল গাফফার চৌধুরীর ‘ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা’

এস এ করিমের ‘শেখ মুজিব ট্রায়াম্ফ অ্যান্ড ট্র্যাজেডি’