বঙ্গবন্ধুর প্রথম দায়িত্বভার

 

১৯৩৭ সাল। আবদুল হামিদ ছিলেন বঙ্গবন্ধুর গৃহশিক্ষক। অসহায় ও দরিদ্র মুসলমান ছেলে-মেয়েদের জন্য একটি সমিতি গড়ে তুলেছেন তিনি। ‘মুসলিম সেবা সমিতি’। ওই সমিতির সদস্য হিসেবে বঙ্গবন্ধু ও সমবয়সী অন্য ছেলে-মেয়েরা প্রতি রোববার বেরিয়ে পড়তেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল সংগ্রহ করতে। ওই চাল বিক্রির টাকা দিয়ে কেনা হতো গরিব ছেলে-মেয়েদের বই-খাতা; মেটানো হতো তাদের পরীক্ষার ফি ও পড়াশোনা বাবদ নানা খরচ। সব ভালোই চলছিল। একদিন হুট করে মারা যান আবদুল হামিদ। ১৭ বছরের কিশোর শেখ মুজিব ভাবলেন, শিক্ষক নেই বলে সমিতি যদি বন্ধ হয়ে যায়, অনেক ছেলে-মেয়ের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে যাবে। তাই সমিতির সম্পাদকের দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিলেন এই মহানেতা। এটিই তার জীবনের প্রথম পদ। সমিতিকে দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য একজন শিক্ষককে বানালেন সভাপতি। টাকা-পয়সার হিসেব ওই শিক্ষকের কাছেই থাকত। বঙ্গবন্ধু যে নেতা হিসেবে বিচক্ষণ ছিলেন, এটি তার প্রথম প্রমাণ।

তথ্য সূত্রঃ 

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’,

দেবব্রত দেব রায়ের ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনে স্মরণীয় ঘটনা’

আবদুল গাফফার চৌধুরীর ‘ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা’

এস এ করিমের ‘শেখ মুজিব ট্রায়াম্ফ অ্যান্ড ট্র্যাজেডি’