বঙ্গবন্ধুর প্রথম জেল

১৯৩৮ সাল। মার্চ কিংবা এপ্রিল মাস। সন্ধ্যায় ফুটবল খেলে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। এমন সময় গোপালগঞ্জের খন্দকার শামসুল হুদা এসে জানালেন, বঙ্গবন্ধুর সহপাঠী আবদুল মালেককে হিন্দু মহাসভার সভাপতি সুরেন ব্যানার্জির বাড়িতে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হচ্ছে। খবর পেয়ে বঙ্গবন্ধু এক মুহূর্ত দেরি করলেন না। এক ছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে ছুটে গেলেন সুরেন ব্যানার্জির বাড়ি। সেখানে গিয়ে মালেককে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেন। ছেড়ে দেওয়া দূরের কথা, উল্টো গালি খেতে হলো তাকে! কিশোর শেখ মুজিব প্রতিবাদ জানালেন। খবর পাঠিয়ে ডেকে আনলেন দলের ছেলেদের। খবর পেয়ে বঙ্গবন্ধুর দুই মামা শেখ সিরাজুল হক ও শেখ জাফর সাদেকও লোকবল নিয়ে ছুটে এলেন। লেগে গেল দুই পক্ষের মারামারি! বঙ্গবন্ধুসহ অন্যরা দরজা ভেঙ্গে মুক্ত করে আনলেন মালেককে।

ওই ঘটনায় পুরো শহরে তখন তোলপাড়। হিন্দু নেতারা থানায় মামলা করলেন। খন্দকার শামসুল হককে করা হলো হুকুমের আসামি। এদিকে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধেও করা হলো কঠিন অভিযোগ। খুনের উদ্দেশ্যে নাকি তিনি হামলা করেছেন! পরদিন বঙ্গবন্ধু জানতে পারলেন, তার মামাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকেও গ্রেপ্তার করতে চায় পুলিশ, কিন্তু সাহস পাচ্ছে না। কারণ বঙ্গবন্ধুর বাবাকে সবাই সমীহ করত। গ্রেপ্তার করতে গড়িমসি করে পুলিশ আসলে বঙ্গবন্ধুকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছিল কিন্তু তিনি বলেছিলেন, ‘আমি পালাব না। পালালে লোকে বলবে, আমি ভয় পেয়েছি।’

অনেক ইতস্তত করে পুলিশ যখন বঙ্গবন্ধুর বাসায় ঢুকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখাল, বাবা বললেন, ‘নিয়ে যান।’ কিন্তু দারোগা বলল, ও (বঙ্গবন্ধু) বরং খেয়ে-দেয়েই থানায় আসুক। সত্যি, খেয়ে-দেয়ে থানায় গিয়ে নিজেই ধরা দিয়েছিলেন কিশোর বঙ্গবন্ধু। থানা হাজতে মেয়ে আসামি না থাকায় তাকে মেয়েদের ওয়ার্ডে রাখা হলো। সেই দফায় সাত দিন পর জামিন পেয়ে তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন।

তথ্য সূত্রঃ 

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’,

দেবব্রত দেব রায়ের ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনে স্মরণীয় ঘটনা’

আবদুল গাফফার চৌধুরীর ‘ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা’

এস এ করিমের ‘শেখ মুজিব ট্রায়াম্ফ অ্যান্ড ট্র্যাজেডি’