বঙ্গবন্ধুর প্রথম রাজনৈতিক সক্রিয়তা

১৯৩৮ সাল। বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ও শ্রমমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী আসবেন গোপালগঞ্জে। করা হয়েছে বিশাল জনসভার আয়োজন। এ নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে বিপুল আলোড়ন। স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর ভার মিশন স্কুলের ছাত্র শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর।

সভা শেষে মিশন স্কুল দেখতে গেলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। বঙ্গবন্ধুসহ অন্যরা তাকে সংবর্ধনা দিলেন। এরপর সোহরাওয়ার্দী যখন হেঁটে লঞ্চের দিকে চলছিলেন, বঙ্গবন্ধুও ছিলেন তার পাশে। তখন কিছু কথা হয় তাদের মধ্যে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী নোটবুকে বের করে বঙ্গবন্ধুর নাম-ঠিকানা লিখে নিলেন। কয়েক দিন পর পাঠালেন চিঠি। সেই চিঠিতে বঙ্গবন্ধুকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি কলকাতায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন সোহরাওয়ার্দী।

১৯৩৯ সাল। কলকাতা বেড়াতে গেলেন বঙ্গবন্ধু। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে দেখে করে বললেন, গোপালগঞ্জে মুসলিম ছাত্রলীগ ও মুসলিম লীগ গঠন করবেন। তার নেতৃত্বেই গড়ে উঠল গোপালগঞ্জের ছাত্রলীগ। সভাপতি হলেন খন্দকার শামসুদ্দীন। বঙ্গবন্ধু হলেন সম্পাদক।

এদিকে সেখানে যখন মুসলিম লীগ ডিফেন্স কমিটি গঠন করা হলো, সেটিও সম্পাদক হলেন বঙ্গবন্ধু। এভাবেই ধীরে ধীরে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। গোপালগঞ্জে তখন তার নামেই মুসলিম লীগ চলত।

তথ্য সূত্রঃ 

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’,

দেবব্রত দেব রায়ের ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনে স্মরণীয় ঘটনা’

আবদুল গাফফার চৌধুরীর ‘ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা’

এস এ করিমের ‘শেখ মুজিব ট্রায়াম্ফ অ্যান্ড ট্র্যাজেডি’