বঙ্গবন্ধুর প্রথম বিদেশ সফর

১৯৫২ সাল। চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠেয় এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক রিম পিস কনফারেন্সে যোগ দিতে গেলেন বঙ্গবন্ধু। এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। আকাশপথে তিনি প্রথমে যান রেঙ্গুন। বার্মা (বর্তমানে মিয়ানমান) বা ব্রহ্মদেশ তখন স্বাধীন। সেই হিসাবে বার্মাই বঙ্গবন্ধুর প্রথম বিদেশ।

রেঙ্গুনের একটি বিশ্রামাগারে থাকার ব্যবস্থা  হলো। ওখানে ঘুরে ঘুরে বেশ কয়েকটি প্যাগোডা দেখলেন। পরদিন ভোরে রওনা দিয়ে পৌঁছলেন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে। সেখানে সকালের নাস্তা সেরে, এক ঘণ্টা পর হংকংয়ের বিমানে চেপে নামেন কাইতেক বিমানবন্দরে।

সেখানে থাকাকালে ঘুরে দেখলেন হংকং। নদীর এক পারে হংকং, আরেক পারে কৌলুন। আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ওখানে জিনিসপত্র খুব সস্তা। তবে বিক্রেতাদের সঙ্গে দামাদামি করতে হয়।

এরপর হেঁটে সেতু অতিক্রম করে কমিউনিস্ট চীনের প্রথম স্টেশন সেনচুন যান তিনি। পার্ল নদীর তীরে বিশাল এক হোটেলে থাকার ব্যবস্থা হয় তার। এখান থেকে প্লেনে পিকিং যাওয়ার পথে পেরোতে হয় দেড় হাজার মাইল এলাকা। ওঠেন পিকিং হোটেলে।

সেবার পিকিংয়ে শান্তি সম্মেলনে অংশ নেওয়া ছাড়াও বেশ কিছু দর্শনীয় জায়গা দেখেন বঙ্গবন্ধু। সম্মেলনে তিনি বাংলা ভাষায় বক্তব্য দেন। সম্মেলনে আসা রুশ সাহিত্যিক আসিমভ এবং তুরস্ক ছেড়ে রাশিয়ায় থাকা কবি নাজিম হিকমতের সঙ্গে দেখা হয় তার। সম্মেলনের পর কয়েক দিন তিনি ঘুরে বেড়ান তিয়েনশিং, নানকিং, সাংহাই, হ্যাংচো প্রভৃতি শহরে।

তথ্য সূত্রঃ 

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’,

দেবব্রত দেব রায়ের ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনে স্মরণীয় ঘটনা’

আবদুল গাফফার চৌধুরীর ‘ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা’

এস এ করিমের ‘শেখ মুজিব ট্রায়াম্ফ অ্যান্ড ট্র্যাজেডি’